kalerkantho


প্রত্যাবাসন না হওয়ায় রোহিঙ্গা শিবির শান্ত

জুমার নামাজে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৬



জুমার নামাজে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত

বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে কোনো রোহিঙ্গার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না হওয়ায় আজ শুক্রবার থেকে শিবিরগুলোর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওদিকে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন না হওয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গাদের জোর-জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে প্রত্যাবাসন না করায় রোহিঙ্গারা সরকার প্রধানকে ‘মা হাসিনা’ আখ্যা দিয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেছেন।

গতকাল শুক্রবার টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদ সিডব্লিউটি’তে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা মসজিদটিতে জুমার নামাজ আদায় করেন। মসজিদে জুমার নামাজের খুৎবায় মওলানা ছৈয়দ আলম বলেন- ‘আমরা রোহিঙ্গারা নির্যাতিত জাতি। রাখাইনের সেনাদের নির্যাতনের মুখে আমরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের সরকার প্রধান আমাদের মানবিকতা দিয়ে আশ্রয় দিয়েছেন। এ জন্য আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

জুমার নামাজ শেষে দীর্ঘ মোনাজাতে মসজিদের বৃদ্ধ অন্ধ হাফেজ আবদুল হাকিম বৃহস্পতিবার জোর করে তাদের প্রত্যাবাসন না করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক কাজের জন্য ‘মা হাসিনা’ আখ্যায়িত পূর্বক তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হয়।

এদিকে শিবিরগুলো আজ শুক্রবার সকাল থেকে সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি হওয়া যেসব রোহিঙ্গা দেশে ফেরা এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিল তারাও স্ব স্ব বস্তিতে ফিরে এসেছে। 

প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গারা শিবিরে বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল। গতকাল উনচিপ্রাং শিবিরে নবী হোসেন নামের এক রোহিঙ্গা জানান- ‘আমরা অবশ্যই ফিরে যাব আমাদের দেশে। তবে আমরা ‘রোহিঙ্গা’ হিসাবে নাগরিকত্ব ঘোষণা নিয়েই ফিরতে চাই।’ তিনি বলেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললে তারা নিজেরাই স্বেচ্ছায় ফিরে যাবে নিজ দেশে।



মন্তব্য