kalerkantho


কুড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতকের দত্তক পেলেন নিঃসন্তান দম্পতি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:২০



কুড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতকের দত্তক পেলেন নিঃসন্তান দম্পতি

ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধান ক্ষেতে কুড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতককে ১৫ দিন পর দত্তক নিলেন টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার ঝনঝনা গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি। মঙ্গলবার ঈশ্বরগঞ্জের চৌকি আদালতের নান্দাইল পারিবারিক আদালতের গার্ডিয়ান এন্ড ওয়ার্ড আ্যক্ট ঘোষণা বলে নিয়োগ সংক্রান্ত এক আদাশ দেন। ২০ জন আবেদনকারীর মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নবীমূল ও রনু আক্তার দম্পতি নবজাতকটিকে পান।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নান্দাইল উপজেলার ঘোষপালা নামক স্থানে গত ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পান কলেজ ছাত্র আনিছুর রহমান হৃদয়। এক রকম ভয়ে আতকে উঠলেও বাড়ি থেকে বড় ভাই মিজানকে ডেকে এনে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সন্ধান পাওয়া সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের। খালি গায়ে দুই পা ওপরে উঠিয়ে কান্না করছে আর শীতে কাঁপছে।

এ অবস্থায় দুই ভাই নিজেদের শরীরের শার্ট খোলে শিশুটিকে মুড়িয়ে নিয়ে যায় থানায়। পরে ওসি কুড়িয়ে পাওয়া ওই শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর নাম রাখা হয় ‘উত্তরা’। আয়া মোছাম্মৎ সুন্দরী বেগমের কাছে আশ্রয়ে ছিল নবজাতকটি। আর এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশ। একটি কক্ষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ নবজাতককে পাইতে ২০ জন নিঃসন্তান দম্পতি থানায় আবেদন করেন। 

পরে নান্দাইল থানা পুলিশ এ ঘটনাটি ময়মনসিংহর প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ রাশেদ কবিরের শিশু আদালতে অবহিত করেন। এই অবস্থায় গত ৪ নভেম্বর প্রথম শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়। অনিবার্য কারণে দুই দিন পর ৬ নভেম্বর ফের শুনানি হলে আদালত আবেদনকারীর কাউকে নবজাতক দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই অবস্থায় বিষয়টি ফয়সালা দেওয়ার জন্য ঈশ্বরগঞ্জ চৌকি আদালতের সহকারী জজ তরিকুল ইসলামের আদালতে স্থানান্তর করা হয়। 

সেখান থেকে মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানি শেষে  মো. নবীমূল ইসলাম খান ও রনু আক্তার দম্পতিকে নবজাতককে দত্তক দিতে নান্দাইল সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশটি পৌঁছার পর মঙ্গলবার বিকেলে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতককে আনা হয় থানায়। সেখানে সামাজ সেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী, ওসি কামরুল ইসলাম মিয়ার উপস্থিতে নবজাতকে নিঃসন্তান দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নবজাতকে লালন-পালন করা সুন্দরী বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।



মন্তব্য