kalerkantho


সিলেট-২ আসন

নৌকার মাঝি হিসেবে শফিককে চান নেতাকর্মীরা

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:২৯



নৌকার মাঝি হিসেবে শফিককে চান নেতাকর্মীরা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীকে চান দলীয় নেতাকর্মীরা। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এই দুই উপজেলা নিয়ে সিলেট-২ আসন গঠিত। দলীয় কোন্দল আর গ্রুপিংয়ের কারণে এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে সেটাকে মিটিয়ে এই আসনে জয়লাভ করতে হলে জনপ্রিয় ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর কোনো বিকল্প নেই। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, জনপ্রিয় এবং ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীই যোগ্য প্রার্থী। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট-২ আসনের মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। সকাল ১০টায় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দুটি আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রির মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। দুপুরে সিলেট-২ আসনের মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন এই আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুর রহমান চৌধুরী।  

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, শফিক চৌধুরী এমনই একজন নেতা যিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক, সাবেক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনো দুর্নীতির আশ্রয় নেননি। সর্বদা নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে নিয়োজিত রেখেছেন। এলাকার সাধারণ ও মেহনতি মানুষ তাদের সকল সুখে দুঃখে তাকে আশ্রয়স্থল মনে করে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি সংবলিত লিফলেট বিতরণ, সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করে আগামীতেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ভোটারদের কাছে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদকসহ তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীরাই আছেন তার পক্ষে।

এদিকে নিজের নির্বাচনী আসনে নৌকার বিজয়ের পাশাপাশি জেলায় থাকা অন্য আরো ৫টি আসনেও যাতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হয় সেজন্য জেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিরলসভাবে রাজনৈতিক মাঠে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শফিক চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশই হচ্ছে শফিক চৌধুরীর রাজনীতিক পথচলার প্রধান শক্তি। যে কারণে এলাকাবাসীর কাছে তিনি শতভাগ আশ্বাসভাজন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। 

বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী চেয়ারম্যান বলেন, সিলেট-২ আসনের উন্নয়নের জন্য নৌকার মাঝি হিসেবে শফিক চৌধুরীর কোনও বিকল্প যেমন দলে নেই, তেমনি মহাজোটেও নেই। তিনি এমপি থাকাকালে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে গ্যাস সংযোগের কাজ শুরু হয়। কিন্তু তিনি বর্তমানে এমপি না হওয়ায় গ্যাস সংযোগের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ওসমানীনগর থানা থেকে উপজেলায় এবং বিশ্বনাথে ২১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫১ শয্যায় উন্নীত হয়েছে ও নির্মিত হয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। তাই এলাকার উন্নয়নের জন্য উহার (শফিক চৌধুরী) মত যোগ্য নেতারই প্রয়োজন।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, বিগত ৫ বছর এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। এমনকি আমাদের দলীয় সাবেক এমপি শফিক চৌধুরীর আমলে চলমান থাকা অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এই ৫ বছরে স্থবির হয়ে পড়ে আছে। যে কারণে এলাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই দলের প্রয়োজনে ও মানুষের চাহিদা পূরণে আসন্ন নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী শফিক চৌধুরীকে দেখতে চাচ্ছেন। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে যেমন দল আরোও শক্তিশালী হবে, তেমনি এলাকার জনগণও পাবেন নিজেদের প্রাপ্য কাঙ্খিত সেবা।

এ ব্যাপারে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তার কাছে সকলেরই আমলনামা রয়েছে, আমার সকল কর্মকাণ্ডের ওপর বিবেচনা করে তিনি আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিজয়ী হয়ে নেত্রীকে এ আসন উপহার দিতে সক্ষম হব। এ ছাড়াও এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ও সার্বিক উন্নয়নে আধুনিকতার প্রসার বিস্তারে কাজ করব।  
       



মন্তব্য