kalerkantho


রাঙ্গাবালী সদর হাট-বাজারের বেহাল দশা

এম সোহেল, রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:০৭



রাঙ্গাবালী সদর হাট-বাজারের বেহাল দশা

অলিগলিতে ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। কাদাপানিতে পা ফেলানোই কষ্টকর। অব্যবস্থাপনা আর অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণের কারণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাহেরচর হাট-বাজারের এমনচিত্র দেখা গেছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের বাহেরচর বাজারে সোম ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাট বসে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে হাটের অলিগলি ময়লা আর আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা! এছাড়া সব্জি পট্টি থেকে মাছ পট্টিসহ সর্বত্র কাদাপানিতে নাকাল হয়ে থাকে। আর বৃষ্টি হলেতো কোন কথাই নেই। সর্বত্র পানি জমে যায়। এই পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ব্যবস্থাও নেই। অপরদিকে বাহেরচর বাজারেরও একই চিত্র। চৌরাস্তা থেকে পূর্বদিক হয়ে দক্ষিণে রাঙ্গাবালী থানা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো থাকলেও খানাখন্দে নাজেহাল। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে নাকাল হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদের চালাচলেও বিপত্তি দেখা দেয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১ বৈশাখ থেকে আগামী ৩ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য বাহেরচর হাট-বাজার ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। অথচ ইজারার শর্তমতে, দরপত্রের উদ্ধৃত মূল্যের শতকরা ৩০ ভাগ অর্থ জামানত হিসেবে যেকোন তফসিলভুক্ত ব্যাংকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর জমা দিতে হবে। এর মধ্যে ৫ ভাগ অর্থ জামানত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। যদি ইজারা গৃহীতা নিয়মিত হাট-বাজার নিজ খরচে পরিষ্কার না করে তাহলে ওই অর্থ দিয়ে তা মিটানো হবে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অব্যবস্থাপনার পাশাপশি তদারকি না থাকায় বাহেরচর হাট-বাজার কাদাপানি আর ময়লা-আবর্জনার নাকাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটের মধ্যে পানি জমে যায়। এর ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না। তাই বেচাকেনাও কম হয়। কিন্তু এই হাটে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত খাজনা দিলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা এসব দেখেও যেন না দেখার ভান করছে। 

বাহেরচর সাপ্তাহিক হাটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, ময়লা-অবর্জনা হাটের অলিগলির মধ্যেই ফেলতে হয়। ময়লা আবর্জনা হালানোরতো নির্ধারিত কোনো জায়গা নাই। আর বৃষ্টি নামলে হাটের বেচা-কেনা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ,  হাটে কাদাপানি জমে থাকায় চলাফেরা করা যায় না। তাই ক্রেতা কমে যায়। ব্যবসায়ীদের কপালে হাত পরে।

বাহেরচর বাজারের ব্যবসায়ী আল আসাদ বলেন, বৃষ্টি-বর্ষায় বাহেরচর চৌরাস্তা থেকে পূর্ব হয়ে থানা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক কাদাপানি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা মন্দা হয়। এই সড়কে তখন  ক্রেতা কম আসার কারণে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও কম হয়।

বাহেরচর বাজার কমিটির সভাপতি আব্বাস হাওলাদার বলেন, হাটে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য আগে ড্রেন ছিল। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানা কিছু অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করায় সেই ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টি হলেই হাটে পানি জমে যায়। আর বাজারের একমাত্র সড়কটি সংস্কার না করায় কাদাপানিতে নাকাল হয়ে রয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতারা খুব দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, ইতোমধ্যে হাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ইজারাদারকে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাহেরচর বাজারের সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে এলজিইডিকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগরই সড়কটি সংস্কার করা হবে। এছাড়া হাটের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



মন্তব্য