kalerkantho


কুমিল্লার যুবদল নেতা ঢাকায় খুন

১০ দিন পার হলেও খুনের কারণ অজানা, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:৩৮



১০ দিন পার হলেও খুনের কারণ অজানা, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

মো. মিজানুর রহমান। ছবি: কালের কণ্ঠ

দশ দিন পার হলেও রাজধানী ঢাকায় কুমিল্লার যুবদল নেতা মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৪২) খুন হওয়ার কারণ এখনো অজানা পুলিশের কাছে। এ ছাড়া ওই যুবদল নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশের সদস্যরা বলছেন, ওই খুনের প্রকৃত কারণ খুঁজছেন তাঁরা। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চালাচ্ছেন তাঁরা। এ জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছেন মাঠে।

গত ১৩ অক্টোবর শনিবার রাতে রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে যুবদল নেতা মিজানকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মিজান কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মিয়াজি বাড়ির মৃত রফিক উল্লা মিয়াজির ছেলে। এ ঘটনায় পর দিন রবিবার সকালে ওই যুবদল নেতার স্ত্রী বিলকিস সুলতানা বাদী হয়ে রাজধানীর কাফরুল থানার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মিজান কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও রাজধানীর কাফরুল থানা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে ছিলেন। এ ছাড়া ইনডোর ডেকোরেশন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। 

এদিকে, এই হত্যার সঠিক কারণ বের করা এবং খুনিদের পরিচয় জানতে দু’টি বিষয়কে সামনে রেখে প্রথমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই বিষয় দু’টি হলো রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক। তবে হত্যার দশ দিন পার হয়ে গেলেও ওই যুবদল নেতাকে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে সে তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশের সদস্যরা। 

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. শামীম হোসেন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, মিজানের হত্যার সঠিক কারণ জানতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আমরা ঘটনায় সময়ের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকেও খুনিদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের সিনিয়র অফিসাররাও এই হত্যার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া আমরা হত্যার প্রকৃত রহস্য বের করতে সকল দিকগুলোই ভালোভাবে তদন্ত করছি। 

নিহত মিজানুর রহমানের বড় ভাই মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার রহস্য বের করতে পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। তারা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। তবে আমরাও এখনো জানতে পারিনি কেন তাকে এভাবে খুন করা হলো। 

মামলার বাদী নিহত মিজানের স্ত্রী বিলকিস সুলতানা বলেন, আমার স্বামী নিজের সমস্যার কথা পরিবারের কাউকেই জানাতো না। আমাকেও কখনো বলেনি যে, তাকে হত্যা করার মতো কোনো সমস্যা থাকতে পারে তার (মিজানের) জীবনে। আমার তিনটি ছেলে এখনো অবুঝ। বড় ছেলে অর্নব চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে, মেঝ ছেলে আইমান প্লে’তে পড়ে আর ছোট ছেলে আইভিনের বয়স মাত্র ৪ বছর। ছেলেরা সব সময় বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। যারা এমন নৃশংসভাবে খুন করে আমাকে বিধবা বানিয়েছে, এই অবুঝ শিশুদের এতিম করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর দ্রুত আমার স্বামীর হত্যকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। 

উল্লেখ্য, রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার ৩৫৭ নম্বর বাসায় স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন যুবদল নেতা মিজানুর রহমান। গত শনিবার রাতে ব্যবসায়িক কাজ সেরে বাসার সামনে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামেন তিনি। এ সময় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি বাসায় ঢোকার মুহূর্তে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে একদল দুর্বৃত্ত। একের পর এক আঘাতের একপর্যায়ে ছুরি পিঠে এমন গভীরে ঢুকে যায় যে দুর্বৃত্তদের পক্ষে তা টেনে বের করাও সম্ভব হয়নি। চিৎকার শুনে যারা আশপাশ থেকে এগিয়ে এসেছিল তাদেরও কেউ মিজানকে নিয়ে যায়নি হাসাপাতালে। পরে এ ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে কাফরুল থানা পুলিশ মিজানকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর কালের কণ্ঠের শেষের পাতায় ‘কুমিল্লার যুবদল নেতা ঢাকায় খুন, ছুরিটি তখনো পিঠে ঢুকে ছিল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ১৬ অক্টোবর একই ঘটনায় ‘কুমিল্লার যুবদল নেতা ঢাকায় খুন, দুই দিনেও ক্লু পায়নি পুলিশ’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।



মন্তব্য