kalerkantho


শাজাহানপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা-ভাঙচুর

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১৬



শাজাহানপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা-ভাঙচুর

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ভাণ্ডারপাইকা সিমেনপাড়া গ্রামে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা এবং পরদিন শনিবার সকাল ৭ টার দিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

হামলায় সিমেন পাড়ার ৬টি বসতবাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করে লেপ, তোষক, টাকা, গহনা, গবাদি পশু, জমি-জমার কাগজপত্রসহ সমস্ত কিছু লুটপাট করা হয়।

দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে সিমেন পাড়ার প্রায় অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু বাড়ি-ঘর ছেড়ে এক কাপড়ে পালিয়ে আত্মিয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেব এবং কমিউিনিটি পুলিশিং এর খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কাদের মাস্টারের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

সিমেনপাড়ার মৃত সিমেন আলীর পুত্র চাঁন মিয়া জানান, তারা ৪জন ওয়ারিশ বাদী হয়ে গ্রামের ৫২জনকে বিবাদী করে আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। ২ সপ্তাহ আগে মামলার নোটিশ আসলে বিবাদী রাজ্জাক, আনছু, দুলাল, নেছার, ইদ্রিসসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেব এবং কমিউনিটি পুলিশিং এর খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি কাদের মাস্টারের সহযোগীতায় চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ এনে শাজাহানপুর থানায় তাদের নামে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১৪ অক্টোবর রাতে থানার এসআই মাসুদ রানা ফোর্সসহ এসে লাঠি দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে এবং কহিনুর ও মুকুল নামে ২জনকে বেদম মারপিট করে। মারপিটে কহিনুর বেগম গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আবু বকর সিদ্দিক, রুমি বেগম, প্রবাসীর স্ত্রী মিতু বেগমসহ অনেকে জানান, তাদের ভোগ দখলীয় ৩০ শতাংশ জমি বিবাদীরা জবর-দখল করে ক্লাব ঘর নির্মাণ করে। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ক্লাব উদ্বোধনের নামে তালেবুল ইসলাম তালেব এবং আব্দুল কাদের মাস্টারের সাথে বৈঠক করে তারা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিন সন্ধ্যায় পাড়ার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশি অস্ত্র নিয়ে সিমেন পাড়ায় আক্রমণ করে।

এ সময় অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে পাড়ার পুরুষেরা দ্রুত পালিয়ে বাড়ি ছেড়ে ফসলি মাঠের ধানের জমির মধ্যে সারারাত লুকিয়ে থাকে। এরপর পুলিশ আসে। পুলিশের সাথে অসংখ্য লোকজন টর্স লাইট জ্বালিয়ে খুঁজে না পেয়ে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে চলে যায়। ভোরের দিকে জমি থেকে বাড়িতে আসার সাথে সাথে আবারো মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাড়ি-ঘরে হামলা করে। নারী পুরুষ শিশু কিশোরদের ওপর নির্মমভাবে মারপিট ও বাড়ি-ঘর ভেঙে তছনছ করতে থাকে। ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে সব কিছু ছেড়ে এক কাপড়ে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই পালিয়ে দূর-দূরান্তে আত্মিয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

মামার বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে মাদলা চাঁচাইতারা গ্রাম থেকে দেখতে আসে ভাগিনা শিপন। দেখতে এসে মারপিটের শিকার হয় সে। তাকে মেরে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করে তারা।

এমতাবস্থায় পালিয়ে বেড়ানো অর্ধশতাধিক মানুষ তারা নিজ বাড়িতে ফিরতে চান। বিচারের জন্য মামলা দায়েরের খরচের টাকাও তাদের কাছে নেই। তাই নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের কাছে সহানুভূতির জোর দাবি জানান তারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম তালেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্পর্ণ মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবারে একপক্ষ আমাকে ডেকে ছিলেন। কিন্তু উভয় পক্ষ না থাকায় কোনো কথাই হয়নি। তাদেরকে আইনের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের মাস্টার জানান, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির একজন সভাপতি হিসেবে এলাকার ভালমন্দ বিষয়গুলি থানা পুলিশকে জানানো আমার দায়িত্ব। আমার দায়িত্ব আমি পালন করেছি মাত্র। প্রতিহিংসামূলক আমার বিরুদ্বে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া সিমেন পাড়ার লোকজন ভালো না। যখন তখন যে কাউকে তারা মারপিট করে। এরকম একটি মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ গিয়ে তাদের ৫ জনকে ধরে আদালতে পাঠায়। এই ঘটনার জের ধরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা ঘরের জিনিসপত্র অন্যত্র পার করে নিজেরা নিজেদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে গ্রামবাসীর কাছে জানতে পেরেছি।

প্রতিপক্ষের জালাল উদ্দিন, সাব্বির আহম্মেদসহ অনেকে জানান, সিমেন পাড়ার চান মিয়াসহ প্রত্যেকেই খারাপ লোক। নিজেরাই নিজেদের ঘর বাড়ি ভেঙে গরু, ছাগলসহ পালিয়েছে।

থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, নিয়মিত মামলায় অভিযান চালিয়ে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোনো মারপিট বা ভাঙচুর করা হয়নি। বরং তারাই পুলিশের উপর চড়াও হয়েছে।



মন্তব্য