kalerkantho


বানাইল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১৯:৫৬



বানাইল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

৫নং বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন খান

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫নং বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।

আজ রবিবার সকালে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ জন সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন খানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগগুলো হলো, সদস্যরা সম্মানী ভাতা না পাওয়া, ইউনিয়ন পরিষদের অফিস কক্ষে আদম ব্যবসা চালানো, পরিষদের সমন্বয়হীনতা, উন্নয়ন সভা না করাসহ নানা অভিযোগ।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৮ মে মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বানাইল ইউনিয়নসহ ৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বানাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন খান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত অফিসে আসেন না। মাঝে মধ্যে এলেও ইউপি সদস্যদের নিয়ে মাসিক উন্নয়ন সভা না করে তার অফিস কক্ষে আদম ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চেয়ারম্যানের কক্ষে আদম ব্যবসায় জড়িতরা ভিড় জমানোর কারণে সদস্যরাও সেখানে বসতে পারেন না বলে অভিযোগে জানা গেছে। এ ছাড়া সদস্যদের সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়হীনতা ছাড়াও সদস্যদের সম্মানী ভাতা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগে করেছেন ইউপি সদস্যরা।

এ বিষয়ে এর আগেও ওই ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য গত ২৫ এপ্রিল মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। উপজেলা সহকারী কমিশনা (ভূমি) আজগর হোসেন তদন্তের কাজ শুরু করেন এবং ৩ জুন ১১টায় শুনানীর সময় ধার্য করেন। ওইদিন সকালে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন খান ইউপি সদস্যদের সাথে ৯ দফা দাবিতে আপোষ করেন এবং সম্মানী ভাতা বাবদ সোনালী ব্যাংক মির্জাপুর শাখায় ইউপি সদস্য মো. কাশেম আলীর নামে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫০ টাকার একটি চেক দেন এবং অভিযোগটি প্রত্যাহার করান। পরবর্তীতে ওই চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে ইউপি সদস্যরা জানতে পারেন (হিসাব নম্বর ৮০২০০১৪৪৩) পর্যাপ্ত টাকা জমা নেই। এরপর ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি দিচ্ছি বলে দিন পার করেন।

গত ২১ জুন চেকটি ডিজঅনার করা হয়। ইউপি সদস্যরা ডিজঅনার চেক দিয়ে মামলার উদ্যোগ নিলে চেয়ারম্যান টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন।

আজ রবিবার সকালে ওই ইউপির ৮জন সদস্য সম্মানী ভাতা পাওয়ার জন্য এবং চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিয়ার রহমান, আবুল কাশেম, আনন্দ কুমার সরকার, মামুন মিয়া, বাদশা মিয়া, আবুল হাসান, সেলিম ও বন্দনা রানী দাস জানান, ইউপি সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪শ টাকা। নির্বাচনের পর থেকে ২৮ মাসের সম্মানী ভাতা পাবেন তারা। সে হিসেবে প্রত্যেক ইউপি সদস্য ১ লাখ ২৩ হাজার ২শ টাকা করে পাবেন বলে জানান।

বানাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই আদম ব্যবসা করেন উল্লেখ করে জানান, তার ইউপিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। সরকারের ধার্যকৃত ট্যাক্স আদায় করা যায় না। অবস্থাশালীদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করা হয়। গত অর্থ বছরে ৩ লাখ টাকা ট্যাক্স আদায় হয়েছে মাত্র। ইউপি সদস্যদের গত অর্থ বছরের সম্মানী ভাতা পরিশোধও করা হয়েছে। নিয়মিত ট্যাক্স আদায় না হওয়ায় সরকার নির্ধারিত সম্মানী ভাতা দিতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা হলে তিনি ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য