kalerkantho


মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে ফুফুর মৃত্যু

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:৪২



মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে ফুফুর মৃত্যু

দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন জাকির হোসেন মামুন। হঠাৎ টাকার জন্য পাগলামি শুরু করে সে। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে একটু দেরী করায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিল মামুন। কিন্তু এই দৃশ্য চোখে পড়ে মামুনের মা, স্ত্রী আর হতভাগ্য এক ফুফুর।

এ সময় তিনজনই ছুটে যান তাকে বাঁচাতে। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন মামুনকে কিছুতেই থামাতে পারছিলেন না তারা। তাদের মধ্যে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে বেপোরোয়া মামুন তার ফুফু তফুরা খাতুনের গলা চেপে ধরে ঘুষি মারতে শুরু করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারায় তফুরা।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের ভোড়রা ছনুয়া গ্রামে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ নিহত তফুরার মরদেহ উদ্ধারের পর আজ রবিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত তফুরা খাতুন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী। নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যাক্তা এই নারী গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে, ওইদিন সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন মামুনকেও আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। মামুন একই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। নিহত তফুরা ছিলেন তার আপন ফুফু।

শনিবার রাতে এই ঘটনায় নিহতের ভাই মীর আহমেদ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামুনকে আজ রবিবার সকালে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

নাঙ্গলকোট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশ্রাফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন মামুনকে বাঁচাতে গিয়েই গ্রাণ দিতে হয়েছে ওই নারীকে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের কারণে মারা গেছেন তিনি। তারপরও সকালে তফুরা খাতুনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর তফুরার ভাই মীর আহমেদের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামুনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।



মন্তব্য