kalerkantho


অর্থ সংকটে জগন্নাথপুরের

দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৪৩



দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অর্থ সংকটে দরিদ্র দুই শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ দুই মেধাবী শিক্ষার্থী হচ্ছেন জগন্নাথপুর পৌরশহরের পূর্ব ভবানীপুর এলাকার দরিদ্র আজমান আলীর ছেলে ইমাদ উদ্দিন। আরেকজন হলেন উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ঘীপুরা গ্রামের চা দোকানদার আব্দুল কালাম আজাদের মেয়ে তাহরিমা আক্তার রুমি।

রুমি উপজেলার শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। গত ১৬ অক্টোবর সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ২৮, ৮৫০ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে তাহমিদা (এ) ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় ২২৩ তম (রোল নং ১২০২১০৯) স্থান অধিকার করেছেন।

অপর শিক্ষার্থী ইমাদ উদ্দিন ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪. ৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের মানবিক শাখা (খ) বিভাগে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ তম (রোল নং ৯২৭৩৫০) মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়। এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর সিলেট শাহজালাল বিভাগ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ইউনিটে ৬১৩ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৬৪তম (রোল নং ১২০৩৩৩৬) মেধা তালিকায় ইমাদ উদ্দিন ফলাফল অর্জনে সক্ষম হয়। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেও অর্থ সংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইমাদের শিক্ষা জীবন।

ইমাদ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানায়, তার বাবা একজন রাজমিস্ত্রীর শ্রমিক। তার আয় দিয়ে দুই ভাই, ৫ বোন নিয়ে বাবা মাসহ ৯ সদস্যর পরিবারের সংসার তাদের। গত প্রায় ১বছর ধরে তার বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ। সংসারের যোগান, নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশুনার ব্যয়ভার যোগাতে নিজে রাজমিস্ত্রী শ্রমিকের কাজ করে কোনো রকম চলছে। তাই ইমাদ প্রবাসী ও সমাজের বিত্তশালীদের নিকট তাকে উচ্চশিক্ষা অর্জনে আর্থিক সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

জগন্নাথপুর পৌরশহরের আর্কেডিয়া লার্নিং হোম সেন্টারের পরিচালক আবু খালেদ জিবলু বলেন, ইমাদ উদ্দিন একজন মেধাবী ছাত্র। পড়াশুনার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ। সে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোচিং করেছে। তার দরিদ্র তার কারণে অর্থ ছাড়াই আমরা তাকে কোচিং করিয়েছি। অর্থাভাবে একজন মেধাবী শিক্ষা সংগ্রামীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাকে সহায়তা করলে সে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে।

অপরদিকে তাহরিমা আক্তার রুমি জানায়, সে পড়তে চায়। তাকে পড়াশুনায় সহায়তার জন্য প্রবাসী ও সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলার শাহজালালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, তাহরিমা আক্তার রুমি খুবই মেধাবী। তার মধ্যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা আছে। দরিদতার কারণে রুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটি ভাবতে কষ্ট হয়। জগন্নাথপুরের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে রুমির মতো শিক্ষা সংগ্রামী মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় এগিয়ে আসবে।



মন্তব্য