kalerkantho


ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় গর্ভবতীর মৃত্যু, বিচার দাবি

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০৪:৪২



ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় গর্ভবতীর মৃত্যু, বিচার দাবি

ভুল চিকিৎসায় নিহত। কৃষ্ণা বিশ্বাস

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলা ও গাফলতির কারণে কৃষ্ণা বিশ্বাস কাজল (২৫) নামে এক গর্ভবতীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুর উপজেলা সদরের প্রাইভেট হাসপাতাল মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। 

কাজল বিশ্বাস উপজেলা দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ও পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা ও রাধা বল্লভ বিশ্বাসের মেয়ে। সে মানিকগঞ্জ জেলার জামশা গ্রামের লিটন সরকারের স্ত্রী। লিটন সরকার একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টায় ৮ মাসের গর্ববতী কাজল বিশ্বাস ব্যথা ও বমিভাব নিয়ে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে অবস্থিত বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতাল মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রেজওয়ানা পারভীন কাজল বিশ্বাসকে ব্যথা, বমি, গ্যাস্টিকসহ চারটি ইনজেকশন দেন। তাছাড়া রোগীর ব্যবস্থাপত্রে কয়েকটি পরীক্ষা লিখে চলে যান। পরে হাসপাতালের নার্সরা কাজল বিশ্বাসকে স্যালাইন দেন। এরপর ক্রমেই কাজল বিশ্বাসের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। পরে হাসপাতালের নার্সরা কাজল বিশ্বাসকে তাড়াহুড়া করে বুধবার রাতেই কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

বৃহস্পতিবার সকালে কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসকরা কাজল বিশ্বাসের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখতে পান ডায়াবেটিসের পরিমাণ ৩৭ পয়েন্ট। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বারডেম হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কাজল বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় গর্ভবতীর করুণ পরিণতি হয় বলে বারডেমের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কাজলের আত্মীয়দের জানান। এ তথ্য কাজল বিশ্বাসের কাকা মুক্তিযোদ্ধা দুর্লভ বিশ্বাস শুক্রবার সন্ধ‍্যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

কাজল বিশ্বাসের কাকী মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা আলো রানী বিশ্বাস জানান, মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের (প্রাইভেট) ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল মালিকদের অবহেলা ও চরম গাফলতির কারণে কাজলের মৃত্যু হয়েছে। এদের যাথাপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রেজওয়না পারভীন জানান, আমি ওই ক্লিনিকের খণ্ডকালীন চিকিৎসক। কাজল বিশ্বাসকে চিকিৎসা দিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় চলে আসি। পরে কে তাকে চিকিৎসা দিয়েছে এবং কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করেছে তা আমার জানা নেই। 

মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি জেনে তিনি হতবাক হন। প্রত্যেক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা দেয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।



মন্তব্য