kalerkantho


কক্সবাজারে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৪৮



কক্সবাজারে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে গতকাল শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। এ সময় পূজারি, ভক্ত, দর্শনার্থী, পর্যটকসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মহামিলন মেলায় পরিণত হয় সৈকত। সৈকতে পূজারীরা মেতে উঠে নেচে গেয়ে এবং আনন্দ উল্লাসে। সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে সন্ধ্যায় বিসর্জন মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে লাখো লোকের উপস্থিতিতে শতাধিক প্রতিমা সাগরে নিরঞ্জন করেন ভক্ত-পূজারিরা।

শুক্রবার দুপুর থেকেই সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে থাকে পুজারীরা। এ সময় ঢাক-ঢোল, তবলা, বাঁশিসহ নানা বাদ্য যন্ত্র নিয়ে এক উৎসব মূখর পরিবেশে সৈকতে ভীড় জমায় তারা। পড়ন্ত বিকালের মধ্যেই সৈকতের লাবনী পয়েন্টের বিশাল এলাকা হয়ে পড়ে লোকে লোকারণ্য। সপ্তাহের ছুটির সুযোগে অনেকেই বেড়াতে আসেন কক্সবাজার সৈকতে। সরেজমিন দেখা গেছে, সৈকতের বিসর্জন অনুষ্ঠানে অনেক বিদেশিরাও যোগ দিয়েছিলেন। তাদের নিকটও উপভোগ্য ছিল এ অনুষ্ঠানটি।

সৈকতের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেছেন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে দেশের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসবকে ঘিরে মানুষের সম্প্রীতি আর উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে বাংলাদেশ শান্তি সম্প্রীতির দেশ। কক্সবাজার সৈকতের এই উৎসব সাম্প্রায়িক সম্প্রীতির মহামিলন উৎসব। এই  প্রতিমা বিসর্জন উৎসবের অসাম্প্রাদায়িক চেতনাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়া দশমীর এক অনুষ্ঠান। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশের সভাপতিত্বে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জাতীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, পুলিশ সুপার (টুরিস্ট) জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল ও কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানিয়েছেন, এবার জেলায় ৩০১টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার জেলার সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা শুভেচ্ছা উপহার প্রেরণ করেছেন। এর আগে বিগত ঈদুল ফিতরের সময় জেলার মুসলিমদের জন্যও ১৫ কোটি টাকার শুভেচ্ছা উপহার পাঠানো হয়েছিল। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে কক্সবাজার জেলাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ উপহার পাঠানো হয়।



মন্তব্য