kalerkantho


মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে ইটভাটা মালিকরা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:১১



মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে ইটভাটা মালিকরা

ঘূর্ণিঝড় তিতলীর প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিনদিন একটানা বৃষ্টি হয়। এতে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চারটি ইটভাটায় প্রায় সাত লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন মালিকরা।

বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, ভাটায় রোদে শুকানোর জন্য আঙিনায় বিছিয়ে রাখা কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গলে কাদা হয়ে গেছে। কিছু ইট পলিথিন দিয়ে ঢেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলেও সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নষ্ট ইট তুলে ফেলে আঙিনা পরিস্কারের কাজে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নেচরাপাড়া গ্রামের এম.জেড.আই. ইটভাটার ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় এ বছর ভাটার মালিকরা আগেভাগে ইট কাটার কাজ শুরু করে। কিন্তু বৃষ্টিতে সবারই ক্ষতি হয়ে গেল।

তার ভাটায় গত দু’সপ্তাহে প্রায় দেড় লাখ কাঁচা ইট তৈরি করা হয়েছিলো। বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এতে মালিকের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কাঁচা ইটের অভাবে ভাটার উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। নতুন করে উৎপাদনে যেতে ১০/১২ দিনের বেশি সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

একই এলাকার এম.এ.এস. ইটভাটার মালিক এমদাদুল হক জানান, গতবছর বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতি হয়েছিল। তাই সে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে এবছর ইট উৎপাদনের টার্গেট বেশি ছিল। তাই আবহাওয়া ভালো থাকবে মনে করে আগে থেকেই ইট তৈরি শুরু করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে এ বছরও দুই লাখের বেশি কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় বর্তমানে আটটি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে এইচ.এস.বি., কে.বি.এম., এম.এ.এস., এম.জেড.আই. নামে চারটি ভাটায় ইট উৎপাদনের কাজ তিন সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে প্রতিটি ইটভাটায় দেড় থেকে আড়াই লাখ পর্যন্ত কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হওয়া এসব কাঁচা ইটের মাটি সরিয়ে নিয়ে আবারও নতুন করে ইট তৈরি করতে হবে। এতে বাড়তি শ্রমিক খরচ হবে।



মন্তব্য