kalerkantho


নারীদের এগিয়ে নিতে পুরুষদের সচেতন হতে হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:২৫



নারীদের এগিয়ে নিতে পুরুষদের সচেতন হতে হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, আমাদের দায়িত্ব হলো ছেলেমেয়েদের সমানভাবে মানুষ করা, সমান সুযোগ দেওয়া, কিন্তু মেয়েদের জন্য আমরা সেটা করি না। এর কারণ আমরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বাস করি, আমাদের মাথার মধ্যে এক ধরনের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সেটা আমরা খুবই সচেতনভাবে করি তা না, অবচেতনভাবে করি। কারণ হাজার বছর ধরে আমাদের মাথার মধ্যে সেটি ঢুকানো হয়েছে। আমাদের সে মনোভাবের পরিবর্তন আনতে হবে। সক্ষমতার দিক থেকে নারী পুরুষ সমান সমান সেটিও প্রমাণ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। তাই নারীদের এগিয়ে নিতে পুরুষদের সচেতন হতে হবে।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এণ্ডিং চাইল্ড ম্যারেজ থ্রো অ্যাডলোসেন্টস ইমপাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত কিশোর-কিশোরী সম্মেলনে প্রধান অথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও আরডিআরএস বাংলাদেশ আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোত্তালেহ সরকার, আরডিআরএস বাংলাদেশের পরিচালক হুমায়ুন খালিদ, ইউনিসেফের মাঠ প্রধান হাবিবুল্লাহ হামীম, আরডিআরএস বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।

পরে মন্ত্রী জেলা শহরের নিজ বাসভবনের সামনে স্বেচ্ছা তহবিল থেকে ২০টি সেলাই মেশিন, ১৭টি হুইল চেয়ার, পাঁচটি বাইসাইকেল এবং ১৬০জন ব্যক্তির মাঝে ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন।

এসময় তিনি বলেন, সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনা যদি আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে আমি বলতে পারি আপনাদেরকে আর এমন সহায়তার জন্য আমাদের কাছে আসতে হবে না। তখন দেশটার আরো উন্নয়ন হবে আপনারা সুখে থাকবেন।

তিনি বলেন, দেশে এখনো বহু মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে রয়ে গেছেন। সেই মানুষগুলোকে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক রকমের প্রকল্প চালু করেছেন। দরিদ্র মানুষগুলোর জীবন মানোন্নয়নে সরকারের নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি, ভিজিএফ, ভিজিডি সুবিধাসহ নানা ধরনের সুবিধা। পাশাপাশি আমরা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছি, আমাদের মাধ্যমে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সহায়তা দেয়ার ব্যাবস্থা করেছেন সেটা হলো ঐচ্ছিক তহবিল।

তিনি আরো বলেন, আমরা ওই তহবিলের পুরো টাকাটাই মানুষের মাঝে বিতরণ করি। কাউকে টাকা দেওয়া হয়, কাউকে হুইল চেয়ার, কাউকে সেলাই মেশিন, কাউকে বাইসাইকেলসহ আয়বর্ধক সামগ্রী। এর বাইরেও আমার যতটুকু সাধ্য, আমার স্ত্রীর, আমার পরিবারের যে সাধ্য আছে, সেখান থেকেও আমি কিছু মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা ও চিকিৎসা সহযোগিতা দিয়ে থাকি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোটা আমার নৈতিক কর্তব্য ও দায়িত্ব।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান প্রমুখ।



মন্তব্য