kalerkantho


বাঁশের দুয়োড় শিল্পে দুর্দিন

কপিল ঘোষ, চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট)    

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:১৪



বাঁশের দুয়োড় শিল্পে দুর্দিন

'দুয়োড় শিল্পে এহন দুর্দিন যাচ্ছে। খাল-নদীগুলো ভরাট হইয়ে গেছে। বৃষ্টি কম, বিল-মাঠ শুকোইয়ে যাচ্ছে। তাই দুয়োড়ের দাম কম। সুদের দেনা টানতি হচ্ছে'- বলছিলেন ষাটোর্ধ বয়সী কালিপদ মণ্ডল।

৪০ বছর ধরে দুয়োড় (মাছ ধরার উপকরণ) বোনেন কালিপদ। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কীর্ত্তনখালী গ্রামের জীতেন মণ্ডলের ছেলে কালিপদ। একই গ্রামের প্রভাস মণ্ডল জানান, তাদের গ্রামে প্রায় ৩৫ পরিবারের সদস্যরা বাঁশ দিয়ে দুয়োড় বোনেন।

চিতলমারীর হাট থেকে এই দুয়োড় যায় পিরোজপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ এলাকায়। জলাশয়ে দুয়োড় পেতে ধরা হয় দেশি মাছ। দুয়োড় নাজিরপুর এলাকায় 'চাই' নামে পরিচিত।

দুয়োড় কারিগররা জানান, প্রতিটি বাঁশে ১০-১২টি দুয়োড় তৈরি হয়, বাঁশের আকার অনুযায়ী কমবেশি  হয়। একজন মানুষ একদিনে চার-পাঁচটি দুয়োড় বুনতে পারে। বাঁশের শলা তৈরি করে সুতায় বুনে মেটেতেল দিয়ে রোদে শুকানোর পর প্রস্তুত হয় দুয়াড়।

আজ বুধবার (১৭ অক্টোবর) চিতলমারী উপজেলা সদরের হাটে সকাল থেকে দুয়োড় নিয়ে পাইকারি  ক্রেতাদের অপেক্ষায় ছিলেন কীর্ত্তনখালীর নলিনী মজুমদারের ছেলে বিনোদ মজুমদার (৬৭)। তিনি বলেন, 'অন্য বছর খরচ পুষিয়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাভ থাকে, এ বছর অবস্থা ভালো না। এই কুটির শিল্প বাঁচানোর জন্য সরকারিভাবে কোনো সাহায্য নেই। সুদে টাকা এনে ব্যবসা করতি হয়। সরকারি সাহায্য থাকলি সুদের দেনা টানতে হতো না।'

চরলাটিমা গ্রামের শুকলাল মণ্ডলের ছেলে সুশান্ত মণ্ডল জানান, জ্যৈষ্ঠ থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত দুয়োড়ের মৌসুম। বর্তমান বাজারে চার প্রকারের দুয়োড় দেখা যায়। প্রতিপিস ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছর দাম থাকে দেড়-দুইশ টাকা করে। প্রায়ই  হাটে অবিক্রিত দুয়োড় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয় বাড়ি। যাতায়াতের খরচ পোষানো দায় হয়। দুয়োড় শিল্প বাঁচাতে তারা সরকারের সাহায্য কামনা করেন।

চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু মুছা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভবিষ্যতে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। চলতি মাসে (৩ অক্টোবর) বাঁশ, বেতসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বাঁশ, বেত, জুতা, নরসুন্দর, কামার, কুমার, ঢোল-খোল-হারমোনিয়াম, নকশী কাঁথাসহ লোক, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জরিপ চলছে। প্রায় এক হাজার পরিবার এ কাজে জড়িত রয়েছে।'    



মন্তব্য