kalerkantho


বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল অরক্ষিত

প্রশাসনের অবহেলায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জায়গাটুকু বেহাতের পথে

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৫৫



প্রশাসনের অবহেলায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জায়গাটুকু বেহাতের পথে

ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর জলঢাকায় বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল অরক্ষিত। উদ্বোধনের পূর্বেই সুযোগ সন্ধানীরা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সরকার নির্ধারিত অবশিষ্ট পাশের জায়গাটুকু দখলে নিচ্ছে। এতে ম্যুরালে সংরক্ষণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের অবহেলার কারণে ম্যুরাল সংরক্ষণের জন্য অবশিষ্ট জায়গাটি বেহাত হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত বছর ধানমণ্ডি-৩২ এর অবকাঠামোতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয় স্থানীয় ট্রাফিক মোড়। সেখানেই ২৮ আগস্ট/১৭ ম্যুরালটি নির্মাণের জন্য উদ্বোধন করা হয়। ম্যুরাল নির্মাণের কারণেই স্থানটি বঙ্গবন্ধু চত্বর নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের অর্থায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মমতা এন্টারপ্রাইজ ম্যুরালটি নির্মাণ করে। ডিজাইন করে শাওন সাগর নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় হয় ২৯ লাখ টাকা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের চারিদিকে খোলা। সেখানে তিন চাকার বিশিষ্ট যানবাহনগুলোর স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ম্যুরালের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জায়গাটিতে কৌশলে অস্থায়ী দখল হিসেবে একাধিক ব্যবসার অস্তিত্ব মিলেছে। এমনকি নৌকার ওপর যে ম্যুরালটি তৈরি করা হয়েছে সেই নৌকাটির টাইলস পর্যন্ত তুলে ফেলার নমুনা দেখা গেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার জন্য এমন হচ্ছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু ম্যুরালটির অযত্ন ও অবহেলার কারণে সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য চলতি বছরের ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছিল জলঢাকা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন। তারপরেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম নুরনবী রহমান জানান, স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে ম্যুরালের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রাখা অবশিষ্ট জায়গাটুকু বেহাত হচ্ছে। এটি রক্ষার জন্য আমি জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জলঢাকা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ বলেন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ম্যুরালটির ওপর প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকার কারণে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জায়গাটি ভূমিদস্যুদের দখলে যাচ্ছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমি জোর দাবি জানাই। আর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে অসমাপ্ত কাজ সে কাজগুলো অতিসত্বর শেষ করার জন্য আহবান জানাই। না হলে সুযোগ সন্ধানীরা ম্যুরালের অবশিষ্ট জায়গাটি দখলে নিয়ে স্থায়ী ব্যবসা গড়ে তুলবে।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, অবহেলা বলতে সেখানে কিছু নেই। ওখানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া আছে। আর ম্যুরালটির আশে পাশে যারা বসেছে তাদেরকে আমি উচ্ছেদ করে দেব।



মন্তব্য