kalerkantho


সরকারি অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিতরা পাচ্ছেন বসতঘর

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৩৮



সরকারি অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিতরা পাচ্ছেন বসতঘর

ছবি: কালের কণ্ঠ

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান জাফর ইকবাল। নিজের জমি থাকলেও বসতবাড়ি করার সক্ষমতা নেই তাঁর। ফলে দরিদ্র বাবা-মায়ের যৌথ পরিবারে স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটছিল জাফর ইকবালের। এতে বেশ কষ্টই হচ্ছিল। অবশেষে সরকারি অর্থায়নে নতুন একটি বসতবাড়ি পেলেন তিনি। ফলে সেই কষ্টের সময়গুলো দুরে ফেলে অনেকটা সুখ ধরা দিল খেটে খাওয়া এই যুবকের। এইভাবে বসতঘর পেয়ে শুধু হাসি ফুটেনি চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভার ঘনিয়ারপাড়ের এমন একজন জাফর ইকবালের। এই উপজেলার এমন প্রায় ৫০০ পরিবারকে সরকারিভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় এমন ৩২৯টি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই উপজেলার একলাসপুর ইউনিয়নে ১৪১টি এবং গজরা ইউনিয়নে আরো ১টি। প্রতিটি ঘর দৈর্ঘ্যপ্রস্ত মিলে ১৮০ বর্গফুট। ইটের পাকা মেঝ, টিনশেডের প্রতি বসতঘরের সঙ্গে আছে একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। এমনই একটি ঘরে বসবাসকারী জাফর ইকবালের স্ত্রী পপি আক্তার জানালেন, স্বামী সন্তান নিয়ে এখন বেশ ভালোই আছেন তিনি। 

পপি আক্তার আরো জানালেন, স্বামীর নিজের জমি থাকলেও আর্থিক সঙ্কটের কারণে বসতবাড়ি তৈরি করতে পারেননি। যে কারণে শ্বশুরবাড়িতে যৌথ পরিবারে অনেকের সঙ্গে তাদের থাকতে হতো। এতে বেশ কষ্টে দিন কাটছিল। তবে সরকারিভাবে বসতবাড়ি পাওয়ায় আগের সেই কষ্ট এখন আর নেই। একই এলাকার জামির হোসেন ও ইব্রাহিম মিয়াও একইভাবে তৈরি বসতঘর পেলেন। তাদের মুখেও সেই আত্মতৃপ্তি আর আনন্দের কথা। ছেঙ্গারচর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান জানালেন, সরকারি অর্থায়নে এসব বসতবাড়ি নির্মাণে তাদের মতো তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ‘‘জমি আছে ঘর নাই’’, এমন বিশেষ প্রকল্পের অধীন প্রতিটি বসতঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র এক লাখ টাকা। 

এই বিষয় কথা হয়, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘‘জমি আছে ঘর নাই’’ এমন প্রকল্পের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহবায়ক এবং উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। যাদের কাজ হচ্ছে, ‘‘জমি আছে ঘর নেই’’ এমন পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হয়। পরে অত্যন্ত স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদেরকে বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার আরো জানান, মোট ৪৭১টি বসতঘরের মধ্যে ৩২৯টি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্টগুলো আগামী ১ মাসের মধ্যে শেষ হলে সুবিধাভোগীদের বসবাসের জন্য হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া‘র দিকনির্দেশনায় এবং জবাবদিহিতার মধ্যে প্রতিটি বসতঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের এমন জনবান্ধব উদ্যোগকে ব্যাহত করতে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই প্রকল্প নিয়ে অপতৎপরতা শুরু করেছে। ফলে এই নিয়ে বসতঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ।



মন্তব্য