kalerkantho


ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মোরেলগঞ্জ; নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ

৫০ বছর ধরে চলছে শুধু পরিদর্শন ও চিঠি চালাচালি

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:৫১



ভাঙনে বিলীন হচ্ছে মোরেলগঞ্জ; নেই কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ

পানগুছি নদীর ভাঙনে দিন দিন বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের মানচিত্র। প্রতিদিন ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। বসতবাড়িসহ বহু প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ঘাট চলে গেছে নদীগর্ভে। গত ৪০ বছরে পানগুছি নদীর আয়তন তিনগুন বেড়েছে। এখন নদীটি প্রশস্ত এক কিলোমিটারের বেশী। সাড়ে ৩ লাখ লোকেরবসতি এখানে।

দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই এই নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে যার পোল্ডার নং ৩৫/২। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরেও সেই স্বপ্নের বেড়িবাঁধের দেখা মেলেনি। বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী আন্দোলন, মানববন্ধন করেছেন। মন্ত্রী, এমপি ও পাউবোর কর্মকর্তারা পরিদর্শনও করেছেন বহুবার। বেড়িবাঁধের দাবিতে ডিও লেটার দিয়েছেন এমপি কিন্তু কাজের কিছুই হয়নি।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় আবারো মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী। গাবতলা, কাঁঠালতলা ও খাউলিয়া গ্রামের দুই শতাধীক নারী পুরুষ ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ও পরিষদের অন্যান্য সদস্যগণও এতে যোগ দেন। ভাঙন রোধে দ্রুত ও টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে। কয়েক বছর ধরে পানগুছি নদীর ভাঙনে ওই তিনটি গ্রামের কমপক্ষে ৫শ’ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। গতকাল রবিবারও গাবতলা গ্রামের ২৫একর জমি ধসে গেছে নদীতে।

গত ৪০ বছরে শুধু উপজেলা সদর থেকে নদীগর্ভে চলে গেছে, খাদ্যগুদাম, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, টেলিফোন অফিস, আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এসিলাহা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবন, ডাকবাংলো, বারইখালী ইউনিয়ন পরিষদ, পুলিশ কোয়াটার, আনছার ময়দান, বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের অফিস, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, থানা জামে মসজিদ, সার্বজনীন হরিসভা মন্দির, শ্মশান ঘাটসহ বহু প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা ঘাট। বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে গাবতলা, কাঁঠালতলা, বারইখালী, ফেরিঘাট, কুমারখালী, সন্নাসী, শ্রেণিখালী, ঘষিয়াখালী, সোনাখালী, ফুলহাতাসহ ২০টি গ্রাম।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় সংদস্য সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি গাবতলা হতে পশুরবুনিয়া অভিমুখে আড়াই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য ডিও লেটার দেন। ডিও লেটারে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতার পূর্বে বেড়িবাঁধ নির্মাণের লক্ষে পোল্ডার নং-৩৫/২ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল যা অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি’।

ডিও লেটারের ভিত্তিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম গেল বছরের ১২ জুলাই পাউবো মহা পরিচলকেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী বলেন, কয়েক শ’ পরিবার তাদের মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিণত হয়েছে। গতকাল ধসে গেছে ২৫একর জমি। পৌর শহর রক্ষার্থে এ পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার পায়লিং হয়েছে। পানগুছির ভাঙন থেকে মোরেলগঞ্জ পৌর শহরসহ ২০টি গ্রাম রক্ষা করতে প্রয়োজন টেকসই বেড়িবাঁধ। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চলছে শুধু পরিদর্শন ও চিঠি চালাচালি। কাজের কিছু হয়নি।

এ সম্পর্কে জানার জন্য পাউবো বাগেরহাট জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত রাব্বির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য