kalerkantho


গ্রেনেড হামলা মামলার রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : মওদুদ আহমদ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:২১



গ্রেনেড হামলা মামলার রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : মওদুদ আহমদ

ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ২১ আগস্টের ঘটনায় তৎকালীন বিরোধী দল (আওয়ামী লীগ) আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। (বিরোধী দলীয় নেতা) শেখ হাসিনার যে গাড়িটিতে অসংখ্য গুলি দাগ ছিল, আলামত হিসেবে তা-ও তদন্তকারী দলকে দেওয়া হয়নি। আমরা এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্ত করতে এনেছিলাম। সেখানে (যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত) তারেক রহমানের নাম আসেনি। কিন্তু এক-এগারোর সরকারের সময় তারেক রহমানকে যুক্ত করা হয়। কাজেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলাটি সাজানো হয়। মামলার রায়ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এজন্য আমরা এই মামলার রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছি।

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে এ সভার আয়োজন করে জিয়া পরিষদ। 

তিনি আরো বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি) জিল্লুর রহমান আমায় অনেক স্নেহ করতেন। (তার স্ত্রী) আইভি রহমানের মরদেহ দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে। এ ধরনের ঘটনাকে আমরা ঘৃণা করি।

মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বইতে উল্লেখ করেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে একটি মামলার রায়কে পাল্টে দিতে বলেন।' একটা দেশের প্রধান বিচারপতিকে যখন প্রভাবিত করা হয়, তখন সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় জেতা অসম্ভব। কাজেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একটাই পথ আছে। মাঠে নেমে এসেই সেই দাবি আদায় করতে হবে।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এই আইনের ৩২ ধারায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। আর ৪৭ ধারায় পুলিশকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনা পরোয়ানায় পুলিশ কারও বাড়িতে-অফিসে গিয়ে ধরে আনতে পারবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে সাত দিনের মধ্যে এই আইন বাতিল করা হবে।

এ ছাড়াও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আছে আর মাত্র তিন মাস। কিন্তু সরকারি প্রশাসন তালিকা করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দিচ্ছে। গ্রামে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ তালিকা করতে সহায়তা করছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে এজন্যই এমন করা হচ্ছে। কোনো ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনটির সভাপতি কবির মুরাদ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অন্য নেতারা।

 



মন্তব্য