kalerkantho


নিখোঁজের চার দিন পর বাঁশ ঝাড়ে মিলল স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৮



নিখোঁজের চার দিন পর বাঁশ ঝাড়ে মিলল স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ

রুবিনা আক্তার রুমা। ছবি: কালের কণ্ঠ

নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর জাজিরার বড়মুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার রুমা (৩৩) এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নিজ বাড়ির পেছনের বাঁশের ঝাড়ের মধ্য থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাজিরা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

জাজিরা থানা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক খান আব্দুর রহিম সূত্রে জানা গেছে, রুবিনা আক্তার রুমা জাজিরা উপজেলার ২০ নং বড়মুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে ২০১০ সাল থেকে কর্মরত আছেন। রুবিনা আক্তার একই উপজেলার মুলনা ইউনিয়েনের মধ্য রায়েরকান্দি গ্রামের মৃত হাসান মুন্সীর মেয়ে। গত শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে আসরের নামাজ শেষে ব্যক্তিগত কাজে উপজেলা সদরে যান। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও রুমা বাড়ি না ফেরায় তার মা মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এর পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুবিনার ভাই শামসুল হক মুন্সি জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পর মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির পেছনের বাঁশের ঝাড়ের মধ্যে থেকে লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দেখতে পায়। পরে তারা জাজিরা থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আত্মীয়-স্বজন ও পুলিশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জানতে পারেনি।

ভগ্নিপতি কামাল মাদবর বলেন, রুবিনা আর আমার শাশুড়ি বাড়িতে থাকেন। রুবিনার একমাত্র ভাই শামসুল হক মুন্সি ঢাকায় থাকেন। অপর চার বোন তাদের শ্বশুর বাড়িতে থাকে। গত শুক্রবার আমার শাশুড়ির কাছে জাজিরা উপজেলা শহরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রুবিনা। এর পর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই জানতে পারি নাই।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক খান আব্দুর রহিম বলেন, রুবিনা ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক ও খুবই ভালো চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁশঝাড়ের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় অর্ধগলিত ও পোকায় ধরা লাশ উদ্ধার করে। অর্ধগলিত লাশের গায়ে পোকা ধরায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



মন্তব্য