kalerkantho


ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:১৫



ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীদের উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সুভাষ চন্দ্র দাস নামে এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে।

গত শনিবার রাত ৯টার দিকে আহত হওয়ার তিনদিন পর গতকাল সোমবার রাত ২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মোটরসাইকেল চালক সুভাষ চন্দ্র দাস। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকার নরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে। সে গত ৪-৫ বছর ধরে এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিল।

এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্ত্রী বিউটি রানী দাস বাদী হয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য উপজেলার বড় বেথাম গ্রামের আবুল খানের ছেলে আরমান খান, একই গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া ও পোশের ছোট বেথাম গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়াকে আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার পরপরই পুলিশ উপজেলার বড় বেতাম ও ছোট বেথাম গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলায় এজাহারভূক্ত ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৯ টার দিকে পৌর শহরের খাদ্য গুদামের সামনের সড়ক থেকে মামলার এজাহারভূক্ত আসামি আরমান, মানিক ও সোহেল উপজেলার করাচাপুর বাজারে যাওয়ার কথা বলে সুভাষের মোটরসাইকেলে করে তারা রওয়ানা দেয়। পরে সুভাষের মোটরসাইকেলটি ওই তিনজনকে নিয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে সড়কের মানশ্রী-জয়পুর সড়কের পাশের কবরস্থানের কাছে যাওয়া মাত্রই তারা চালক সুভাষকে মোটরসাইকেলটি থামানোর কথা বলে। সুভাষ তাদের কথামতো মোটরসাইকেলটি সেখানে থামায়।

এ সময় ছিনতাইকারীরা তাদের সাথে থাকা ছোরাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালক সুভাষকে মোটরসাইকেলটি রেখে চলে যাওয়ার কথা বললে সে তাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং সে তখন বাঁচাও-বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা ছোরা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুভাষের পেটেসহ বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপুরি আঘাত করতে থাকে। পরে সুভাষের ডাক-চিৎকারে আশ-পাশের গ্রামের লোকজন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে ছিনতাইকারীরা তখন দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে সুভাষকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই থাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনদিন পর সোমবার গভীর রাতে সুভাষের মৃত্যু হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মোতালিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোরা ও ধারালো অস্ত্রসহ নিহতের মোটরসাইকেলটি জব্দ করার পর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে তাদেরকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য