kalerkantho


টেম্পুতে নয় পেটে আগুন দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:২৫



টেম্পুতে নয় পেটে আগুন দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ!

চাঁদা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে টেম্পুর চাকা কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও চালককে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করার অভিযোগ উঠেছে ঈশ্বরদী-পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্যের বিরুদ্ধে।

অসহায় বৃদ্ধ চালক টেম্পুতে আগুন জ্বলতে দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা মিলে টেম্পু চালককে বাড়িতে রেখে আসেন। আর বাড়িতে জ্ঞান ফিরেই চালক বিশু বলেন, 'হাইওয়ে পুলিশ টেম্পুতে নয়, আমার পরিবারের সকল সদস্যদের পেটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কারণ এটা আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র বাহন'। এ রকম আহাজারি তার পরিবারের বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও চার ছেলে মেয়ের।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় পাবনা ঈশ্বরদীর রূপপুর লালন শাহ সেতুর পুর্বপাড় গোল চত্বরে। পুড়িয়ে দেওয়া টেম্পুটির নম্বর ঢাকা মেট্রো- ত-৭৬৪৬।

টেম্পু যাত্রী মুঞ্জুয়ারা ও আনিসার রহমান জানান, তারাসহ বেশ কয়েকজন সেই সময় ভেড়ামারা থেকে রুপপুর মোড়ে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে একদল হাইওয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছিল। টেম্পুটি পুলিশ দেখে পাশে থামান। পুলিশ এই সময় লোহার শিক দিয়ে চাকাগুলো ছিদ্র করে দেয়। বৃদ্ধ চালক আকুতি জানালে পুলিশ তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে চাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

উপজেলার দিয়াড় বাঘইল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ক্ষতিগ্রস্থ টেম্পু চালক বিশু কালের কণ্ঠকে জানান, টেম্পুটি চালিয়ে তিনি বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও চার ছেলে মেয়ের লেখা পড়া এবং সংসার খরচ চালান। গত কয়েকদিন পূর্বে এনজিও থেকে কিস্তি উঠিয়ে টেম্পুর তিনটি নতুন চাকা কিনে লাগিয়েছেন। কিন্তু এখনো কিস্তিই পরিশোধ হয়নি। আর চাঁদা না পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ তার টেম্পুর চাকাগুলো কেটে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন তার পরিবারের সকলকে হয়তো বেশ কিছুদিন যাবৎ না খেয়ে থাকতে হবে।

পাকশী হাইওয়ে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) রাজিবুল করিম কালের কণ্ঠকে জানান, টেম্পু চালক বিশু মানসিকভাবে অসুস্থ। গাড়ির চাকাগুলো কেটে দিলে সে আবোল তাবোল বকতে থাকে। পরে তাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়িতে রেখে আসা হয়। আর টেম্পুটি রাস্তা থেকে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে।

ঈশ্বরদী টেম্পু চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনাটি একেবারেই নিন্দনীয়। তাদেরকে মাসিক মাসোয়ারা দেওয়া হয়। তারপরও এইভাবে গরিবের পেটে লাথি মারা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে অবগত করা হবে।

চালক সমিতির একাধিক সুত্র কালের কণ্ঠকে জানান, টেম্পুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার টেম্পু, অটোরিক্সা ও সিএনজি চালকদের মধ্যে গতকাল সকালে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবস্থা সামাল দিতে টেম্পু ও অটোরিক্সা চালত সমিতির নেতাদের ফাঁড়িতে ডেকে সমঝোতা করতে বৈঠক করেন হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রাজিবুল করিম।



মন্তব্য