kalerkantho


বালিজুরি রেঞ্জে গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৩৮



বালিজুরি রেঞ্জে গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি

চলছে বন বৃক্ষ নিধন। বাড়ছে সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে জন বসতি। এতে সংকুচিত হচ্ছে শেরপুরের শ্রীবরদীর বালিজুরি রেঞ্জের বন বাগান। বেদখল হচ্ছে সরকারের বনভূমি। বছরে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি বন কর্তৃপক্ষ ও কতিপয় উপকারভোগীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মানুষেরা।

বালিজুরি রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ রেঞ্জে রয়েছে বালিজুরি, মালাকোচা, কর্ণঝোড়া ও ডুমুরতলা বিট অফিস। এসব বিটে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৫শ একর। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার একর জমিতে উডলট বাগান। এ বাগানে করা করা হয়েছে একাশি, মেহগিনি, গামর, সেগুন, আকাশ মনি, গজারি ও ইউক্লিপটার্সসহ বিভিন্ন প্রজাতির দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষ।

গত চার বছরে এসব বাগানে প্রতিনিয়ত ঘটছে বৃক্ষ চুরির ঘটনা। এতে বাগানের বৃক্ষগুলো এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে পতিত বনভূমিতে গড়ে ওঠছে অবৈধ বসতি। ক্রমেই বেদখল হচ্ছে বনভূমি। হারাচ্ছে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য।

অভিযোগে প্রকাশ, প্রতিনিয়ত দিনে ও রাতে চলছে বৃক্ষ নিধন। এতে সহায়তা করছে বন কর্তৃপক্ষ ও কতিপয় উপকারভোগী। এসব পাচারের সুবিধার্থে নজরদারি করছে বন কর্তৃপক্ষ। ফলে কাঠচোররা প্রকাশ্যেই এসব বৃক্ষ পাচার করছে। ফলে উজার হচ্ছে বন বাগান। বালিজুরি সদর বিটে ২০০০ ও ২০০১ অর্থ বছরের সৃজিত উডলট বাগান প্রায় চার বছর আগে নিলামে বিক্রি হয়। পরে ওই জমিতে আবার উডলট বাগান করার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয়। নেওয়া হয় উপকারভোগী। অথচ ওইসব বনভূমি বেশিরভাগ আজও পরিত্যক্ত। তবে নিজেদের দায় মুক্তি করতে বালিজুরি ও কর্ণঝোড়া বিটে ৪০/৫০ একর করে জমিতে করা হয়েছে উডলট বাগান। বালিজুরি ও কর্ণঝোড়া বিটে এখনো সহাস্রাধিক একর জমি পরিত্যক্ত। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে স্থানীয় উপকারভোগীরা।

তবে লাউচাপড়া ও মালাকোচা বিটের উপকারভোগীরা জানান, তাদের তদারকি ও চাপে অনেকটাই বন দখল ও বৃক্ষ চুরির ঘটনা কমে আসছে। এমনিভাবে বালিজুরি রেঞ্জের দুটি বিট থেকে সরকার বছরে হারাচ্ছে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব। বেদখল হচ্ছে শতশত একর জমির বনভূমি। এদিকে কর্ণঝোড়া বিটের বনভূমি এখন বেশিরভাগই উজার। 

বৃক্ষ চুরি আর বন দখলের অভিযোগ তুলে বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম স্থানীয় ধর্মযাজক ও আদিবাসী ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানসহ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র মান্দা বলেন, যারা বন দখল করে বসতভিটা করছে, কাঠ চুরি করছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। নিজেদের অনিয়ম আর দুর্নীতি ঢাকতে নিরীহ লোকদের ওপর একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এতে আদিবাসীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা মামলা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমা বলেন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করছে। এতে আদিবাসীরা অস্তিত্ব সংকট নিয়েও শঙ্কিত।

এ ব্যাপারে বনভূমিতে অবৈধভাবে বসভিটা গড়ে তোলা ও কাঠ চুরির ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বালিজুরি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অফিসার আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, লোক সংখ্যা কম। তাই সব বিটে সমানভাবে পাহারা দিতে পারি না। তবে ইতোমধ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী ও কাঠ চোরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ নানা ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেকে বসতভিটা করেন। এ জন্য আমরা কিছু করতে পারি না। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন এ কর্মকর্তা।

অভিযোগকারী ও এলাকাবাসীর দাবি, এ নিয়ে এখনই প্রয়োজন বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। নইলে অচীরেই বৃক্ষ শূন্য হবে এ রেঞ্জের বন বাগান। বসতভিটা গড়ে ওঠবে সর্বত্র। এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মানুষরা। 



মন্তব্য