kalerkantho


ঝিনাইদহ-৩

আ. লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শোডাউনের প্রতিযোগিতা

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৪



আ. লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শোডাউনের প্রতিযোগিতা

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলের ১০ জন নেতা। প্রত্যেকেই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তাই তাঁদের মধ্যে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের শোডাউনের প্রতিযোগিতা। এ কারণে দলটি বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক প্রার্থীর কর্মীরা প্রকাশ্যে অথবা ফেসবুকের মাধ্যমে দলীয় অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর চরিত্র হননেও কুণ্ঠাবোধ করছে না, যা অনেককেই বিব্রত করছে।
 
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল আজম খান চঞ্চল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন তালুকদার মায়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক রেজাউল করিম টিটন, কোটচাঁদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক অজিবর রহমান মোহন, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষায়ক সম্পাদক এম এম জামান মিল্লাত, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রোকনুজ্জামান প্রিন্স।
 
শেষ সময়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বাজার, মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজেদের রংবেরঙের পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটাদের মাঝে নিজেদের যোগ্যতা ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। আর কয়েক দিন পরই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। সে কারণে শেষ সময়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শুরু হয়েছে শোডাউনের প্রতিযোগিতা; কে কত মানুষ ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন করতে পারেন।
 
বৃহস্পতিবার সরকারদলীয় সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল আযম খান চঞ্চল ছয় থেকে সাত হাজার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে দিনব্যাপী কোটচাঁদপুর-মহেশপুর উপজেলায় শোডাউন করেন। এর আগে সকালে মহেশপুর পৌর শহরের স্কুল মাঠে বিশাল জনসভায় তিনি বক্তব্য দেন।
 
শুক্রবার বর্তমান সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ দেড় থেকে দুই হাজার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ছুটির দিন হলেও স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের শোডাউনে হাজির হওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ। 
 
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের আমার শোডাউনে আসার নির্দেশ দেওয়ার কথাটা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এটা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র।’ 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘বুঝতে পারছি না কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন। আমরাও বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজ দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মীরা নিজেদের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের কুত্সা ছড়াচ্ছে।’ এতে পরে দলীয়ভাবে একজোট হয়ে নির্বাচনে নামা কষ্টসাধ্য হবে বলে তিনি মনে করেন।


মন্তব্য