kalerkantho


বকশিসের নামে ভারতীয় ট্রাক চালকদের হয়রানি

বেনাপোলে দ্বিতীয় দিনের মতো দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৬



বেনাপোলে দ্বিতীয় দিনের মতো দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ছবি: কালের কণ্ঠ

বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালকদের সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারী কয়েকটি সংগঠনের সদস্য কর্তৃক বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য ট্রাক থেকে আনলোড নিয়ে নানা হয়রানিসহ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর থেকে ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। 
 
ফলে ভারত থেকে কোনো পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি এবং বেনাপোল বন্দর থেকে কোনো পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে যায়নি। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভারতের পেট্রাপোলে বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক। যার অধিকাংশই রয়েছে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখি গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য। তবে আমাদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে বেনাপোল বন্দরে খালাশ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। কাস্টমসেও কাজ চলছে স্বাভাবিকভাবে।
 
ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলছেন, ভারত থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর তাদের ওপর শুরু হয় নানা হয়রানিসহ দুর্ব্যবহার। নিয়ম মাফিক বকশিসের টাকা দিলেও তারা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করে আসছে। এসব জটিলতা নিরসনে দু‘দেশের বিভিন্ন সংগঠেনের সমন্বয়ে সম্প্রতি দুইটি আলোচনা সভা বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়।
 
সভায় সিদ্ধান্ত হয় ট্রাক বিশেষ বকশিসের হার। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের কতিপয় সংগঠনের সদস্যরা এ সকল সিদ্ধান্ত না মেনে তারা ইচ্ছা মাফিক বকশিসের টাকা আদায়ের ব্যাপারে অনড় থাকায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে  ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলো। আজও বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে মাইক লাগিয়ে তারা সমাবেশও করেন।
 
বেনাপোল চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, পেট্রাপোল বন্দরের কিছু ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতারা পরিকল্পিতভাবে ইতিপূর্বে বেনাপোলে পণ্যজট দেখিয়ে একটি সিন্ডিকেট করে ট্রাকের ডেমারেজ বাবদ প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করে নিতো। এর ফলে এক একটি ট্রাক পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৫ থেকে ২০ দিন। বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে কোনো পণ্যজট না থাকায় প্রতিদিনের ট্রাক প্রতিদিন প্রবেশ করছে সে কারণে ভারতীয় ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা কোনো ডেমারেজ পাচ্ছে না। এর ফলে আবারো নানাভাবে তুচ্ছ ঘটনায় তারা আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যাতে বন্ধ রেখে ডেমারেজ আদায় করা যায়।
 
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। শনিবার বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে। আশা করি আলোচনা সফল হবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
 
এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, দু’দেশের শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শনিবার দুপুর থেকে এ পথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্য সচল করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
 
উল্লেখ্য, যোগোযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ পথে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। সপ্তাহে শুক্রবার ছাড়া অন্য ৬ দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলে। প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই বন্দরে। প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে।


মন্তব্য