kalerkantho


চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৩৮



চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন সাতুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর প্রায় সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় অন্তঃসত্ত্বা ওই শিশুটির চাচা বাদী হয়ে উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন জগন্নাথপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে ও দুই সন্তানের জনক অভিযুক্ত ধর্ষক আক্কল আলীকে (৪০) আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় মধ্যনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মামলা দায়েরের পর ওইদিন দিবাগত রাত ৩ টার দিকেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক আক্কল আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে আদালতের নির্দেশে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ জুন উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায় পাষণ্ড আক্কল আলী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মধ্যনগর থানাধীন জগন্নাথপুর গ্রামের এক দিনমুজুরের ওই শিশু কন্যাটি পাশের সাতুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আক্কল আলী বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে থাকা তার একটি টিনের চালা ঘরে এক জগ টিউবওয়েলের পানি নিয়ে আসার জন্য ওই শিশুটিকে বলে। শিশুটি তখন আক্কল আলীর কথামতো তাদের ঘর থেকে একটি জগ ভর্তি পানি ও গ্লাসসহ ওই ঘরে যায়। এ সময় মেয়েটি ঘরে ঢোকা মাত্রই আক্কল আলী ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং সে গামছা দিয়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সে ওই ঘরে থাকা একটি ধারালো দা হাতে নিয়ে মেয়েটিকে বলে, 'এ বিষয়টি যদি তুই কাউকে বলিস তবে আমি তোকে এই দা দিয়ে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে এই পুকুরের মাছের খাবার দেব'। শিশুটি তখন আক্কল আলীর এ হুমকির ভয়ে সে তার এ বিষয়টি মাসহ পরিবারের কাউকেই  জানায়নি।

এ অবস্থায় গত প্রায় ১০-১২ দিন ধরে শিশুটির শারিরীক অবস্থা অস্বাভাবিক দেখে তার মায়ের মনে সন্দেহ দেখা দেয় এবং তার মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি তার মায়ের কাছে সব কিছুই খুলে বলে। পরে মেয়েটিকে নিয়ে তার মা স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে যান এবং সেখানে ওই পল্লী চিকিৎসক মেয়েটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে তার মাকে জানান। পাশাপাশি মেয়েটিকে নিয়ে পাশের কলমাকান্দা উপজেলা সদরে গিয়ে মেয়েটিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর জন্যও ওই চিকিৎসক মেয়েটির মাকে পরামর্শ দেন। পরে ওই পল্লী চিকিৎসকের কথামতো এর দুইদিন পর মেয়েটিকে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন পাশের কলমাকান্দা উপজেলা সদরের একটি প্যাথলজি সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষার পর মেয়েটি প্রায় সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে নিরুপায় হয়ে মেয়েটির চাচা বাদী হয়ে ওই লম্পট আক্কল আলীকে আসামি করে মধ্যনগর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

মেয়েটির বড় ভাই দিনমুজুর মো. শহীদ মিয়া (৩৮) কান্না জড়িত কণ্ঠে কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা ৩ ভাই আর এক বোন। আর আমার এ বোনটি সবার ছোট। আমরা গরীব মানুষ আর বাবাও অসুস্থ থাকায় আমি মানুষের বাড়িতে কামলা দিয়া আমাদের দরিদ্র এ সংসারের খরচসহ আমার আদরের ছোট এ বোনটিকে ইস্কুলে লেখা-পড়া করিয়ে আসছি। কিন্তু এই জানোয়ারটা (আক্কল আলী) আমাদের সব শেষ কইরা দিছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

শহীদ মিয়া আরো বলেন, আমরা গরীব হওয়াতে এলাকার কিছু লোক এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমিসহ আমার পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে মধ্যনগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সানোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই আমরা লম্পট আক্কল আলীকে গ্রেপ্তার করি এবং আজ রবিবার দুপুরে তাকে আদালতের নির্দেশে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।



মন্তব্য