kalerkantho


সিলেট-৬ আসন: জোট-মহাজোটের প্রার্থী কারা?

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট)    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৩৭



সিলেট-৬ আসন: জোট-মহাজোটের প্রার্থী কারা?

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬  (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জোট-মহাজোটের জটিল হিসাব হিসাব চলছে। কোন জোটে কিংবা কার ভাগ্যে দলীয় প্রতীক জুটবে-এ নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন এই আসনের সাধারণ মানুষ।

সাংগঠনিক শক্তির বিচারে এখানে আওয়ামী লীগ মূল রাজনৈতিক শক্তি। এরপরও জোটের হিস্যা মেলাতে শরিক দলগেুলোকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বারবার। জোট-মহাজোটের মারপ্যাঁচের কারণে আলোচিত এ আসনে এবারো প্রার্থিতা নির্ভর করছে জোটের রূপ কেমন দাঁড়ায়, তার ওপর।

বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে কোনো দলই নিরঙ্কুশ জয় পায়নি। এখান থেকে আওয়ামী লীগের আব্দুর রহিম ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় পার্টির গৌছ উদ্দিন ও শরফ উদ্দিন খসরু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়া সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০০৮ সালে চারদলীয় জোট থেকে সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন পান জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবীবুর রহমান। এ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির পাঁচজন, জাতীয় পার্টির একজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কানাডা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছরওয়ার হোসেন, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফছার খান সাদেক এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বিএনপি থেকে জাসাসের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়ছল চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রশিদ আহমদ, জাতীয় পার্টি থেকে হুইপ সেলিম উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবীবুর রহমান নির্বাচন করতে বিভিন্নভাবে তদবির করছেন। পাশাপাশি সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং নির্বাচনী মাঠের দক্ষ খেলোয়াড় ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়া।

এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী সব প্রার্থীই দলীয় হাই কমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে কর্মীদের অবহিত করেছেন।

সূত্র আরো জানায়,  জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মহাজোট বজায় থাকলে এ আসন থেকে কে মনোনয়ন পাবেন-এ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। একইভাবে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে গেলে কার ভাগ্যে বিরোধী এ জোটের মনোনয়ন জুটবে- তা সময়ই বলে দেবে।

জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান বলেন, '২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়নের ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আমি এবার সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ।' 

একই জোটের অপর প্রার্থী ফয়ছল চৌধুরী বলেন, 'বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জরিপে আমাকে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা হয়েছে।' এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে আমিই দলীয় প্রার্থী হব- এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আফছার খান সাদেক বলেন, 'সিলেট-৬ আসনে নেত্রী নতুন মুখ খুঁজছেন। আমাকে হাইকমান্ড থেকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি তো মাঠেই আছি। তবে আমি ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারণার বিপরীতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কাজের তথ্য অবহিত করছি।

ছরওয়ার হোসেন হোসেন বলেন, নেত্রীর সবুজ সংকেতে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ এলাকার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছি। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি বলে মনে করি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হুইপ সেলিম উদ্দিন লন্ডনে এক সভায় সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন পেলে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। আর বিএনপির কেউ মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন কি-না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে লেছু মিয়া বলেন, নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এখন সময়ের অপেক্ষা।

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। এটা সম্পূর্ণ নেত্রীর ইচ্ছার ওপর। তবে মহাজোটের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অনেক ছাড় দিতে হবে আওয়ামী লীগকে।

বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.  শাখাওয়াত হোসেন জীবন বলেন, আগে নেত্রীর মুক্তি। তারপর নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত।  



মন্তব্য