kalerkantho


বেলাবতে নৌকাডুবিতে ভাই-বোনের মৃত্যু

রাজৈর ও দেবহাটায় মৃত্যু তিন শিশুর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০২:৪৫



বেলাবতে নৌকাডুবিতে ভাই-বোনের মৃত্যু

নানির বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা গেল দুটি শিশু। নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় গতকাল শনিবার এ দুর্ঘটনা ঘটনা। এ সময় তাদের সঙ্গে মারা যায় তাদের খালাও। অন্যদিকে মাদারীপুরের রাজৈরে ফুটবল খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে মারা গেছে দুটি শিশু। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। সাতক্ষীরার দেবহাটায় পানিতে ডুবে একটি শিশুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত প্রতিবেদন :

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে গতকাল দুপুরে নৌকা ডুবে ভাই-বোনসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো উপজেলার জঙ্গুয়া গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে নীলা আক্তার ইতি (১৫), ভৈরবের বাঁশগাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে সামিয়া আক্তার (৭) ও ছেলে তামিম মিয়া (৫)। সামিয়া ও তামিম সম্পর্কে নীলা আক্তারের বড় বোনের ছেলে-মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, ভৈরবের বাঁশগাড়ী গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী আক্তার তাঁর ছেলে-মেয়েসহ বেলাব উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। গতকাল দুপুরে খালা নীলা আক্তার, ভাগ্নি সামিয়া, ভাগিনা তামিমসহ কয়েকজন পার্শ্ববর্তী ব্রহ্মপুত্র নদে একটি ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরতে বের হয়। নৌকায় বসা অবস্থায় তারা শাপলা ফুল তুলতে গেলে নৌকাটি কাত হয়ে এতে পানি উঠে ডুবে যায়। এ সময় পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নীলা, সামিয়া ও তামিম তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মো. নাজমুল করিম তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে বেলাব থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহত নীলা আক্তারের বাবা বাদল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালেই মেয়ে নাতি, নাতনিসহ আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরে নৌকা নিয়ে ঘুরতে গেলেই এই বিপত্তি ঘটে। আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন জামাইয়ের কাছে কী জবাব দিব আমরা?’ 

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুটবল খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে রাকিব শেখ (৭) ও ইয়াছিন শেখ (৭) নামে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাকিব কামাল শেখ ও ইয়াছিন ধলু শেখের ছেলে।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কদমবাড়ী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের ছাত্তার শেখের বাড়িতে আগুন লাগলে এলাকার লোকজন আগুন নেভানোর জন্য সেখানে যায়। এ সময় রাকিব ও ইয়াছিন বাড়ির পাশে ফুটবল খেলতে থাকে। খেলার সময় বলটি হঠাত্ মাঠের পাশে খালের মধ্যে পড়ে যায়। খাল থেকে বলটি ওঠানোর সময় ইয়াছিন ও রাকিব খালের মধ্যে পড়ে পানিতে ডুবে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর খালের পানিতে বল ভাসতে দেখে পরিবারের লোকজন বিকেলে তাদের খালের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রাকিব ও ইয়াছিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটায় পানিতে ডুবে এক শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। 

ওই শিশুর বাবা উপজেলার পুষ্পকাটি গ্রামের ফরহাদ হোসেন জানান, তাঁর শিশুকন্যা ফারিয়াকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তিনি ভোমরা স্থলবন্দরে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে কে বা কারা তাঁর মাথায় সজোরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে ফরহাদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই সুযোগে হামলাকারীরা তাঁর মেয়েকে কাছের পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে। স্থানীয় লোকজন ফরহাদকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। 

শুক্রবার সকালে কিছুটা সুস্থ হতেই ফরহাদের কাছে খবর আসে যে তাঁর মেয়ে ফারিয়ার লাশ ভাসছে পুকুরে। এ খবর শুনে নিজের অসুস্থতার কথা ভুলে ফরহাদ দ্রুত ছুটে যান তাঁর নিথর মেয়ের কাছে।  

তবে এলাকাবাসী বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলে, এ ঘটনা প্রচারের পেছনে ফরহাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এলাকায় ফরহাদের সঙ্গে অনেকেরই বিরোধ আছে। তাদের ফাঁসাতেও তিনি এ গল্প ফাঁদতে পারেন। 

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মান্নান আলি জানান, শিশু ফারিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অনেকটাই রহস্যাবৃত। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিংবা আঘাত করে হত্যার কোনো চিহ্নই শিশুটির দেহে নেই। এমনকি ফরহাদের দেহেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তদন্ত না করে কোনো কিছু বলা কঠিন। তিনি বলেন, ফরহাদকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 



মন্তব্য