kalerkantho


সাতক্ষীরায় পুকুর থেকে মেয়ের লাশ ও বাবাকে জীবিত উদ্ধার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাতক্ষীরায় পুকুর থেকে মেয়ের লাশ ও বাবাকে জীবিত উদ্ধার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফারিহা সুলতানা নামের চার বছরের একটি শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যা এবং তার বাবাকে মুখ ও দুই পা বেঁধে পুকুরে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ পুষ্পকাটি গ্রামের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের পুকুর থেকে পুলিশ শিশু ফারিহার লাশ উদ্ধার করে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে একই পুকুর থেকে দুই পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মেয়েটির বাবা ফরহাদ হোসেনকে উদ্ধার করে তাঁর স্বজনরা। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ পুষ্পকাটি গ্রামের সাজ্জিনা খাতুন তাঁর স্বামীর বরাত দিয়ে জানান, একই গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী ও বিএনপির কর্মী মোকছেদ গাজীর বাড়ি কৃষিকাজ করেন তাঁর স্বামী ফরহাদ হোসেন। মোকছেদ গাজী বিএনপির কর্মী। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাকর্মী তাঁর স্বামীকে সেখানে কাজ না করার জন্য বার বার চাপ দিচ্ছিল। ১০ দিন আগে মোকছেদকে পুলিশ নাশকতার একটি মামলায় ধরে নিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। এরপর থেকে তাঁর স্বামীর ওপর চাপ আরো বেড়ে যায়। 

সাজ্জিনা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে এসে নিজের শিশুকন্যা ফারিহাকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইবাদুলের মুদি দোকানে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের জিয়ারুল ইসলাম, ইবাদুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, রিপন হোসেন, লাল্টু, নাজমুলসহ কয়েকজন তাঁর স্বামীকে ধরে গ্রামের সরদারবাড়ি মসজিদের পুকুরের পাশে বাঁশবাগানে নিয়ে যায় এবং সঙ্গে থাকা মেয়ে ফারিহাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফরহাদকে মারধর করে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। পরে মুখ ও দুই পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় ফরহাদ পুকুরপাড়ে থাকা একটি খেজুরগাছের চারা ধরে তিনি ডাঙায় উঠে মোবাইল ফোনে মামা আলমকে নিজের অবস্থার কথা জানান। পরে স্বজনরা তাঁকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু রাতে তাঁর মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন পুকুর ঘাটে ফারিহার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

অন্যদিকে সরেজমিনে সরদারবাড়ি মসজিদের পুকুরপাড়ের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা, হালিমা খাতুন, সাবুর আলী, আব্দুর রহমান কেউই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। কেউ শোনেননি বাচ্চার কান্না বা তার বাবা ফরহাদের চিত্কার। এ ছাড়া পুকুরপাড়ের বাঁশবাগানে যেখানে ফরহাদকে মারপিট করার পর মুখ ও দুই পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়, সেখানে পানির স্তর থেকে খেজুর গাছের দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে সেখান থেকে মুখ ও পা বাঁধা কোনো ব্যক্তির ওঠা সহজ হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া পানি থেকে উঠে মামা আলমের ফোন রিসিভ করাটাও নাটকীয় বলে মনে করে স্থানীয় লোকজন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগকর্মী পুষ্পকাটি গ্রামের বাসিন্দা জিয়ারুল ইসলাম জানান, ফরহাদ একটি হত্যা মামলার আসামি। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সেকেন্দ্রা বটতলা এলাকায় শেখ হাসিনার প্রতীকী কবর খুঁড়েছিলেন মোকছেদ। সম্প্রতি তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার বদলা নিতে মোকছেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলতে ফরহাদ নিজের মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। পরে নিজের পা ও মুখ বেঁধে নাটক সাজিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. আহছানউল্লাহ কাফি জানান, ফরহাদের শরীরের আঘাত ছিল সাধারণ। দেবহাটা থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী জানান, শিশু ফারিহার লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সাজ্জিনা খাতুন ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।



মন্তব্য