kalerkantho


শিবচর ও চিতলমারীতে ভাঙন অব্যাহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৪



শিবচর ও চিতলমারীতে ভাঙন অব্যাহত

ফাইল ছবি

মাদারীপুরের শিবচরে গতকাল শনিবার পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি না বাড়লেও ভাঙন অব্যাহত আছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়েছে। এদিকে বাগেরহাটের চিতলমারীতে মধুমতী নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় লোকজন। উপজেলার শৈলদাহ বাজারে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা-পিরোজপুর সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে তা উপক্ষো করেই চলছে ভারী যানবাহন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শিবচরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর পানি বাড়েনি। তবে ভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে উপজেলার চর জানাজাতের পশ্চিম ফকিরকান্দি রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা, মোবাইল ফোনের টাওয়ার ও একটি ব্রিজ। অন্যদিকে আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়েছে অর্ধশত ঘরবাড়ি। আক্রান্তরা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। এ নিয়ে গত কিছুদিনে বিলীন হলো চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আট শতাধিক ঘরবাড়ি, ইউপি ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, তিনটি কালভার্ট-ব্রিজ, শত শত বিঘা ফসলি জমি ও পাকা সড়ক।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র স্রোতে উপজেলার সন্ন্যাসীরচরে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বিলীন হয়েছে পাঁচ্চর-সন্ন্যাসীরচর-বন্দরখোলা সড়কের একাংশ। হুমকিতে পড়েছে বাজার, ব্রিজ, সড়ক ও ঘরবাড়ি। ভাঙন রোধে নদে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলছে। তবে তা পরিস্থিতি অনুযায়ী খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ রায় বলেন, কিছুদিনের নদীভাঙনে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসাসহ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। হুমকিতে আছে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়। বিলীন হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিরাপদ স্থানে পরিচালনা করা হচ্ছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, ‘বর্ষার শুরু থেকেই পদ্মায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। মৌসুমের শেষ দিকে এসে আড়িয়াল খাঁ নদেও ভাঙন দেখা দেয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতী নদীর পানি দুই ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীগর্ভে গেছে পরানপুর গ্রামের ছয় পরিবারের বাড়িঘর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধের বাইরে থাকা ছয় গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙনের শঙ্কায় আছে। 

এদিকে ভাঙনে বিধ্বস্ত ঢাকা-পিরোজপুর পাকা সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও তা উপক্ষো করা হচ্ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চিতলমারীর শৈলদাহ বাজারের কাছে সড়কের অর্ধেকাংশ বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওই সময় শৈলদাহ বাজারের ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শৈলদাহের ভেঙে যাওয়া বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ ফাটলের ওপর দিয়ে শিশুরা ঘোরাফেরা করছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ উপুড় হয়ে বসে থেকে নদীর পানি ও স্রোতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। শৈলদাহের ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর তত্ত্বাবধানে বস্তায় বালু ভরতে এবং ও বাঁশের খাঁচা তৈরি করতে দেখা যায়। ভিটামাটি হারানো শৈলদাহের আল-আমীন শেখ বলেন, ‘ওয়াপদার কাজের যে গতি তাতে আরো কত ক্ষতি হয় কে জানে?’ 

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই হাজার ৭৬০ বস্তা (জিওব্যাগ) বালু বাঁশের খাঁচায় ভর্তি করে ফেলা হবে। প্রতিটি জিওব্যাগের ধারণক্ষমতা ১২০ কেজি বালু। জরুরিভাবে আপাতত এটা বরাদ্দ হয়েছে।’

অন্যদিকে চিতলমারী-টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সীমন্তের শেখ লুত্ফর রহমান সেতুসংলগ্ন মচন্দপুর বাজারের উত্তরে শুরু হয়েছে ভাঙন। সেতু থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মচন্দপুর গ্রামে বাড়ি বাদশা শেখের। বাড়ির সামনের ভাঙন দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘রাতে ভাঙনের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। আমার মতো একই অবস্থা অসংখ্য মানুষের।’ 

মচন্দপুর বাজারে বসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোসলেম শেখ বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছি।’  



মন্তব্য