kalerkantho


প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে অর্থ আদায়, অতঃপর ...

নওগাঁ প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:১০



প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে অর্থ আদায়, অতঃপর ...

ছবি: কালের কণ্ঠ

নওগাঁয় ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে প্রেমের আহবান জানিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে বিশেষ কৌশলে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায়ের প্রতারক চক্রের ৪ তরুণী ও তাদের সহযোগী ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এই চক্র বেশ কিছুদিন ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে এই অপকর্ম করে আসছিল। পুলিশ তাদের বহুদিন ধরে খুঁজছিল।

নওগাঁ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল হাই জানান, গ্রেপ্তারকৃত শান্তা, নিপা ও সন্ধ্যা উক্ত রিয়া নামের মেয়ের সহযোগিতায় যেকএনা ধনাঢ্য ব্যক্তিকে টার্গেট করে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাদের প্রথমে প্রেমের অফার দিয়ে বাড়িতে ডাকে। এই ডাকে কেউ কেউ সাড়া দিয়ে ফেঁসে যায়। তাদের বাড়িতে ডেকে এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে উভয়ে বিবস্ত্র হয়। তাদের ছেলে সহযোগিদের ফোন করে। তারা এসে দরজা নক করে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন আংগিকে ছবি তোলে। ছবি ফেইসবুকে বা নানাভাবে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ল্যাব জোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী পরিচালক ময়নুল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শহরের পার-নওগাঁ দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের কন্যা শান্তা খাতুন (৩০), নিপা খাতুন (৩২) ও সন্ধ্যা খাতুন (১৯), বগুড়ার আদমদিঘী থানার কেল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা রিয়া খাতুন, নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মন্ডলের পুত্র হারুন মন্ডল (৩৬), আজাহার আলীর পুত্র আরিফ হোসেন (২৫), আফজাল হোসেন মোল্লার পুত্র নুর ইসলাম নোবেল (২০) এবং আব্দুস সালামের পুত্র আশিক (১৯)। 

উক্ত ময়নুল ইসলামকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল অবলম্বন করে। কৌশলে সে থানায় জানালে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে ময়নুল বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করেছে। 

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকায় শিউলী ম্যানসনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকাকালীন সময় মঙ্গলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামকে এমন ফাঁদে ফেলে নগদ ৫০ হাজার টাকা আদ্য়া করে এবং ৮ লাখ টাকা দাবি করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। সে ব্যাপারেও একটি মামলা থানায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।



মন্তব্য