kalerkantho


ঝিনাইদহ-৩ আসন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে?

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)    

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:১৯



 ঝিনাইদহ-৩ আসন: আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে?

ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন- তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। মাঠ চষে বেড়ানো দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১০ জন। সবাই আশাবাদী মনোনয়নের ব্যাপারে। শেষ মুহূর্তে চলছে তাই শোডাউনের প্রতিযোগিতা।

নিজেদেরকে মেলে ধরতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় নেতাকর্মীদের যে যার মতো ভাগিয়ে পক্ষে নিচ্ছেন। এ কারণে বর্তমানে আওয়ামী লীগ বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান এমপি নবী নেওয়াজ, সাবেক এমপি অ্যাড. শফিকুল আজম খান চঞ্চল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি পারভীন তালুকদার মায়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক রেজাউল করিম টিটন, কোটচাঁদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অজিবর রহমান মোহন, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষায়ক সম্পাদক এম এম জামান মিল্লাত, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী রোকনুজ্জামান প্রিন্স।

শেষ সময়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বাজার ও মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সবখানের স্ব-স্ব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মীরা রংবেরঙের পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটাদের মাঝে নিজেদের যোগ্যতা ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরকার দলীয় সাবেক এমপি অ্যাড. শফিকুল আযম খান চঞ্চল ছয়-সাত হাজার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে দিনব্যাপী  কোটচাঁদপুর-মহেশপুর উপজেলায় শোডাউন করেন। এর আগে সকালে মহেশপুর পৌর শহরের স্কুল মাঠে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

আজ শুক্রবার বর্তমান এমপি নবী নেওয়াজ দেড় থেকে দুই হাজার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অভিযোগ রয়েছে ছুটির দিন হলেও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শোডাউনে হাজির হওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন এমপি নবী নেওয়াজ। 

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিগত দিনে আমি মানুষের জন্য কাজ করেছি। এ কারণে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা আমাকে মনে রেখেছে। আজ শুক্রবার আট  থেকে ৯ হাজার মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন ও শোডাউনের পূর্বে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জনসভা তারই প্রমাণ।

এমপি নবী নেওয়াজ শোডাউন থেকে কালের কণ্ঠকে বলেন, স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের আমার শোডাউনে আসার নির্দেশ দেওয়ার কথাটা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এটা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র। তিনি বলেন, আমার এত নেতাকর্মী শোডাউনে অংশ নেবেন আমি ভাবতেও পারিনি। আমার শোডাউনে তিন হাজার মোটরসাইকেলের বহর রয়েছে। নেতাকর্মী সমর্থক রয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি এবং এখনো করছি। এ আসনের অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরাও বুঝতে পারছি না কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন। আমরাও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মীরা নিজেদের দলের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের  বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়াচ্ছেন। এতে আমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।  



মন্তব্য