kalerkantho


‘জননী’ ভয়ংকর

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪৯



‘জননী’ ভয়ংকর

মেহেরা আক্তার (৩৫) নিজের সন্তানকে প্রথমে খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম দিন ব্যাপক বমিসহ মরণাপন্ন অবস্থা হলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনি মিয়াকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নিয়ে যান মেহেরা। কিছুটা সেরে উঠলে বাড়িতে এনে আবারও কীটনাশক মেশানো খাবার দেওয়া হলে এবার প্রচণ্ড জ্বর আসে শিশুটির, সঙ্গে বমি হতে থাকে। তখনো চলছিল গোপনে কীটনাশক খাওয়ানো। চতুর্থ দিন বমি ও পাতলা পায়খানা করতে করতে জনি যখন অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে—তাকে নিয়ে মা চলে যান পুকুরপারে। তারপর পানিতে চুবিয়ে রেখে যখন দেখেন শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়েছে—সন্তানের নিথর দেহ পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে মা ফিরে আসেন বাড়িতে। কয়েক ঘণ্টা পর সবার অলক্ষ্যে সবুজ ও সন্তু মিয়া নামের দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পুকুরে যান মেহেরা এবং লাশটি তুলে ইটবাঁধা বস্তায় ভরে গভীর পানিতে ডুবিয়ে দেন। এরপর মেহেরা আহাজারি করতে থাকেন তাঁর ছেলে জনি নিখোঁজ হয়ে গেছে। সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিংও করানো হয়।

নৃশংস এ অপরাধকর্মটি সংঘটিত হয়েছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গগডা গ্রামে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো। কারণ হামলা-মামলা কৌশলেও প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই ঘায়েল করা যাচ্ছিল না। দুই দিন পর জনির বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া গিয়েছিল ওই পুকুরেই। মামলার পর পুলিশ প্রতিবেশী ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলে সবুজ মিয়া (৩০) হত্যার রহস্য পুলিশের কাছে ফাঁস করে দেন। এরপর গত বুধবার রাতে মা মেহেরা আক্তার ও  নিকটাত্মীয় মো. সন্তু মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হলে তাঁরাও পুলিশের কাছে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন।

কেন্দুয়া থানার ওসি গাজী ইমারত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বৃহস্পতিবার তাঁদের নেত্রকোনা আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওসি আরো বলেন, তাঁকে মেহেরা আক্তার বলেছেন,  ১০ বছর আগে জনিকে জন্মের এক দিন পরই নিয়ে যান নিঃসন্তান চাচা আব্দুল ক্বারী। আব্দুল ক্বারী কেন্দুয়া পৌর এলাকার চন্দগাতী গ্রামে বসবাস করেন। তাঁর স্ত্রী ঝরনা আক্তার সন্তান স্নেহে এত বছর জনিকে লালন-পালন করেছেন। তিনি ছয় মাস আগে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চলে গেলে জনি গর্ভধারিণী মায়ের কাছে ফিরে আসে। ওসি জানান, একই গ্রামের মৃত শাহেদ বেপারীর ছেলে বাচ্চু, বাবুল, মাজু মুন্সি ও মৃত আরাফাত আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন এবং সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল জনির বাবা ছোবহান মিয়ার। আসামি সবাই পরিচিত প্রতিপক্ষ হলে সন্দেহ হবে এ জন্য নিজেদের লোক সবুজ মিয়াকেও আসামি হতে রাজি করানো হয়। পুলিশ ছয়জনকেই আটক করে। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে টিকতে না পেরে সবুজ সব বলে দেন। পাঁচজনকে ছেড়ে দিয়ে সবুজকে আদালতে পাঠানো হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর জনি খুন হয় এবং দুদিন পর খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। খবরটি কালের কণ্ঠও প্রকাশ করে। 



মন্তব্য