kalerkantho


জলঢাকায় সন্তানের বিরুদ্ধে মাকে নির্যাতনের অভিযোগ

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:১৩



জলঢাকায় সন্তানের বিরুদ্ধে মাকে নির্যাতনের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকায় বুধবার গভীর রাতে সন্তানের হাতে এক মাকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছেলের নিকট জীবন ভিক্ষার পর মায়ের শেষ রক্ষা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গোলনা কালিগঞ্জ ওয়াপদা পাড়া এলাকায়।

জানা গেছে, উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ ওয়াপদা পাড়া এলাকার সাবেক সেনা সদস্য মকবুল হোসেন প্রায় চার বছর আগে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ফরিদা বেগম (৬০)সহ দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান।

ইতোমধ্যে মৃত মকবুল হোসেনের সন্তানদের বিয়ে হলে তারা আলাদা হয়ে যান। কিন্তু ভবঘুরে হয়ে যায় ফরিদুল ইসলাম মাসুদ(২৮)। মাঝেমাঝেই তিনি তার মাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মৃত সেনা সদস্যের ভাই আব্দুল লতিফ জানান, বুধবার রাত প্রায় ১টার দিকে আমি রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। সে সময় আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে ফরিদা ভাবী জানান, ভাই আমাকে বাঁচাও। ভাবীর এমন কথা শুনে আমি চিৎকার করে উঠি।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমার স্ত্রী আয়শা, ছেলে আশিক, আমার ভাই শের জামাল ও তার স্ত্রী মাহামুদা ভাবীসহ দৌড় দিয়ে ফরিদা ভাবীর বাড়ীতে যাই। সেখানে তাকে প্রায় জ্ঞানহীন বিবস্ত্র অবস্থায় দেখি। রাতেই ভাবীকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যাই। সকালে জ্ঞান ফিরলে ভাবী বলেছেন, তার ছেলে মাসুদ তাকে মেরে ফেলতে উপর্যুপরি আঘাত করেছে। এক পর্যায়ে মা হয়ে ছেলের পা ধরে জীবন ভিক্ষা চাইলে তিনি শেষ রক্ষা পান।

আয়শা আক্তার ও মাহামুদা বেগম জানান, মাসুদ আমাদের ভাসুরের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা বেপরোয়া। তার বাবা মারা যাবার পর এক সময় চুরিও করতে শুরু করে। তারপর সে এলাকায় ধারদেনা শুরু করে। দেনা পরিশোধ করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় যায়। বর্তমানে এমন অবস্থা যে ঋনের চাপে সে বাড়ীতে আসতে পারে না।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) বিশ্বদেব রায় কালের কণ্ঠকে জানান, এখনো আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।



মন্তব্য