kalerkantho


বরিশালে প্রতারকচক্রের সদস্য তিন মুহরি গ্রেপ্তার

বরিশাল ব্যুরো   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৫:০১



বরিশালে প্রতারকচক্রের সদস্য তিন মুহরি গ্রেপ্তার

পেশায় তাঁরা আইনজীবীর সহকারী (মুহরি); কিন্তু মূল কারবার প্রতারণা। একটি বিশেষ চক্রের হয়ে তাঁরা জমির জাল দলিল তৈরি, ডিক্রির রায়সহ নকল কাগজপত্র তৈরি করেন অবলীলায়। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে চার জালিয়াত। তাদের মধ্যে তিনজনই মুহরি। গতকাল বুধবার তাঁদের গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে পুলিশ জানিয়েছে প্রতারণার নানা তথ্য। তাঁদের হেফাজতে মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসের সিল, জাল দলিল, স্ট্যাম্প ও প্রতারণার নানা সরঞ্জাম।

বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জালিয়াতচক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছে সারা দেশে। বানারীপাড়া থানার পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নাম প্রকাশ করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।’

সূত্র জানায়, জালিয়াতচক্রের গ্রেপ্তার করা সদস্যরা হলেন বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামের আব্দুল মান্নান তালুকদার (৬০), মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ গ্রামের মো. বাবুল চৌকিদার (৬০), উজিরপুরের কেশবকাঠী গ্রামের শাহজাহান হাওলাদার (৬০) ও আগৈলঝাড়া উপজেলার চত্রিশীরা গ্রামের নজর আলী আলী মৃধা (৫৮)। বরিশালের আইনজীবী আলমগীর হোসেন, আশফাকুল হোসেন ও আ. মজিদ ঢালীর মুহরি হিসেবে তাঁরা কাজ করতেন। তাঁদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে জমির দলিল, ডিক্রির রায় ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সরঞ্জাম। ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মূল্যের স্ট্যাম্প ফলি এবং আদালত, ভূমি অফিস, রেকর্ড অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কয়েক শ সিল পাওয়া গেছে তাঁদের কাছে। এমনকি তাঁদের কাছে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একাধিক সিল।

বানারীপাড়া থানার এসআই মোশারফ হোসেন জানান, জমিসংক্রান্ত একটি মামলার তদবিরে এক ব্যক্তি দলিল নিয়ে থানায় আসেন। সেটি ছিল জাল দলিল, যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল। এ সময় আলাপচারিতায় জানা যায় ইলুহার গ্রামের মান্নান মুহরি দলিলটি তাঁকে দিয়েছেন। এরপর সোর্স নিয়োগ করে মান্নান মুহরির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারকদের। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ গত সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইলুহার গ্রামে মান্নান মুহরির বাড়িতে অভিযান শুরু করে। তখন তিনি বাড়িতে বসে জাল দলিল তৈরির কাজ করছিলেন। বাড়ি তল্লাশি করে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ জাল দলিল, পরচা, নকশাসহ জালিয়াতির নানা সরঞ্জাম। মান্নানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বরিশাল নগরীর চকবাজার ও বগুড়া রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাবুল চৌকিদার, শাহজাহান হাওলাদার ও নজর আলী মৃধাকে। তাঁদের কাছেও পাওয়া যায় জালিয়াতির সরঞ্জামাদি।



মন্তব্য