kalerkantho


মায়ের মাদক ব্যবসায় ছেলে : নিয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয়

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১০



মায়ের মাদক ব্যবসায় ছেলে : নিয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয়

ছবি: কালের কণ্ঠ

যশোরের অভয়নগরে মা বেবী বেগমের মাদক ব্যবসার সরবরাহকারী এখন ছেলে রাজু গাজী (৩৫)। তার এ মাদক ব্যবসা চলছে রাজনৈতিক দলের আশ্রয়। মাদক সংশ্লিষ্ট এ পরিবারের হাত থেকে প্রতিকারের জন্য সোচ্চার হয়ে উঠছে এলাকাবাসী ও অভিভাকরা। 

মাদকের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও নওয়াপাড়া বাজার ও আশেপাশে মাদকের বিস্তার কমেনি। পুয়েন্টগুলো বন্ধ হলেও ভ্রাম্যমাণভাবে চলছে মাদক সরবরাহের কাজ। এমনই কথাগুলো জানালেন, গত সোমবার নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানায় স্কুলব্যাগে বহন করা ৬০ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক খুলনা সোনাডাঙ্গা থানার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম (৪৫) নামের এক নারী মাদক সরবরাহকারী। 

তিনি ফেন্সিডিল বহনের ঘটনায় বলেন, কিছুদিন পূর্বে নওয়াপাড়া পৌরসভার বুইকরা গ্রামের বকুলতলা এলাকার বেবী বেগমের সঙ্গে পাসপোর্ট তৈরির ব্যাপারে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর শুরু হয় যাতায়াত। পাসপোর্ট তৈরির জন্য বেবী বেগম ও তার ছেলে রাজুর নিকট ছবি ও যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি। যা বর্তমানে বেবী বেগমের বাড়িতে খুঁজলে পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, বেবী বেগম তাকে বিদেশে না গিয়ে দেশে থেকে কাজ করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে বলা হয় যশোর থেকে নওয়াপাড়াস্থ তাদের বাড়িতে একটি স্কুলব্যাগ পৌঁছে দিলে পাবেন নগদ ২ হাজার টাকা। হতদরিদ্র পারভীন বেগম পরিবারের কথা চিন্তা করে প্রস্তাবে রাজি হয়ে যশোর থেকে ফেন্সিডিল বহন করে রাজুদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে শুরু করেন। আটকের ঘটনাটি তার তৃতীয় ফেন্সিডিল বহনের চালান ছিল বলে তিনি জানান। 

চোখের অশ্রু মুছতে মুছতে পারভীন জানান, বোরকা পরিহিত বেবী বেগমের ছেলে নওয়াপাড়া পৌর যুব সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেলে করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগকারী মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দিয়ে থাকেন। কএনা হেলমেট বা ক্যাপ পরে রাজুর বিচরণ উপজেলার সর্বত্র। তাকে অর্থের লোভ দেখিয়ে মাদক বহনের ব্যবসায় বেবী বেগম ও তারই ছেলে রাজু গাজী নামিয়েছেন বলে তিনি তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। 

অপরদিকে স্থানীয় বকুলতলাবাসী ও কোমলমতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভয়নগর থানার নবাগত ওসি আলমগীর হোসেনসহ মাদক বিরোধী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ঘাপটি মেরে আবাসিক এলাকায় বসবাস করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকার যুব সম্প্রদায়ের ক্ষতি করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় দেখতে চায়।



মন্তব্য