kalerkantho


শুধু শিশুদের চিকিৎসা হয় অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বয়স্করা বঞ্চিত

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:১১



শুধু শিশুদের চিকিৎসা হয় অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বয়স্করা বঞ্চিত

শুধুমাত্র শিশুদের দাঁত তোলার ব্যবস্থা রয়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগে। এতে করে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বয়স্ক রোগীরা। সেখান থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বয়স্কদের। সেখানে নেই দাঁত ফিলিং, স্কেলিং, আরটিএ করার ব্যবস্থা। লাভবান হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকের ডেন্টাল বিভাগ।

কর্তৃপক্ষের দাবি, নষ্ট লাইটের জন্য পর্যাপ্ত আলোর অভাব, দুই যুগের পুরাতন ডেন্টাল চেয়ার ও আধুনিক সরঞ্জামাদি না থাকায় এমনটি হচ্ছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নশীল কয়েকটি উপজেলার মধ্যে অভয়নগর উপজেলা একটি। যে উপজেলা দেশের মধ্যে সার, কয়লা ও পাথর বিক্রির একটি অন্যতম মোকাম হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। সেই উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিলেও বয়স্করা হচ্ছে বঞ্চিত। নিরুপায় হয়ে এসব রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকের ডেন্টাল বিভাগে গেলে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। যে কারণে হত দরিদ্র রোগীর পড়ছেন বিপাকে। এমনই অভিযোগ দাঁতের যন্ত্রণায় কাতর চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ৬ হাজার জন, প্রতিমাসে প্রায় ৫শ’ জন, যা প্রতিদিন হিসেবে ২০ জন রোগী দাঁতের বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তবে প্রতিদিন ২০ জন রোগীর মধ্যে শিশুরা বাদে গড়প্রতি ১৫ জন রোগী দাঁতের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ফিরে যান প্রাইভেট ক্লিনিকে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিকে পেয়ে উপজেলার বুইকরা গ্রামের রীনা বেগম (৫০), চলিশিয়ার রহমান মোল্যা (৪৫), আন্ধা গ্রামের প্রফুল্ল মণ্ডল (৬০), শিক্ষার্থী আসজাদ ইসনাদসহ (১৮) দাঁত তুলতে আসা রোগীরা বলেন, দাঁতের সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। ডাক্তার দাঁত তুলতে পারবেন না বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি শিশুদের ছাড়া বড়দের দাত তুলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা টেকনোলজিস্ট রুহুল কুদ্দুস বলেন, দাঁত ফিলিং, স্কেলিং, আরটিএ ইত্যাদির উপর সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। বড়দের দাঁত তোলার অপরাগতার কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত আলো না থাকা, পুরাতন ডেন্টাল চেয়ার ও যন্ত্রপাতির কথা তুলে ধরে বলেন, বয়স্কদের দাঁত তোলা ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় শুধুমাত্র শিশুদের চিকিৎসা দিতে পারছেন। বয়স্ক রোগীদের জন্য যে ধরণের ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন তা আমাদের হাসপাতালে নেই বলেও তিনি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মঞ্জুরুল মুর্শীদ জানান, লোকবল সংকট, হাসাপাতালে ডেন্টাল ডাক্তার না থাকায় ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডেন্টাল বিভাগ চালাতে হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর চেয়ার, লাইট, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং একজন দাঁতের ডাক্তারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে দাঁত ফিলিং, স্কেলিং, আরটিএ ও বয়স্কদের দাঁত তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।



মন্তব্য