kalerkantho


ভরা মৌসুমে কঁচা ও বলেশ্বর নদীতে ইলিশের আকাল

জেলে পরিবারে হতাশা

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৯



ভরা মৌসুমে কঁচা ও বলেশ্বর নদীতে ইলিশের আকাল

এখন সময়টা ইলিশের জন্য ভরা মৌসুম হলেও দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা ইন্দুরকানীর কঁচা ও বলেশ্বর নদে জেলেদের জালে মিলছে না পর্যাপ্ত ইলিশ। এ কারনে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা উপজেলার প্রায় দুই সহস্রাধিক জেলে পরিবারে বিরাজ করছে হতাশা।

ভরা মৌসুমের শুরুতে সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা নেই। আর এর ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় এলাকা পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর নদ-নদীতেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছে না জেলেরা। ইলিশ ধরা না পড়ায় অভাব-অনটনের মধ্যে ধারদেনা করে চলছে তাদের সংসার। এখানকার শত শত জেলে রয়েছে যারা এই মৌসুমে ঝড়, বন্যা আর জলদস্যুদের ভয়ে সাগরে না গিয়ে স্থানীয় নদ নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন। রাতদিন জাল ফেলে দু’একটা ইলিশ ধরা পড়ছে জালে। যা বিক্রি করে সংসার চালানো অনেক কষ্ট হচ্ছে জেলে পরিবারগুলোর। এ অবস্থায় বর্তমানে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

বছরের জুন মাসের শুরু থেকেই জেলেদের জালে ধরা দেয় রূপালি ইলিশ। কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পেয়ে হাসিতে ভরে ওঠে জেলেদের মুখ। মাছ বিক্রি করে সারা বছরের ধারদেনা শোধ করতে থাকেন দরিদ্র জেলেরা। দলে দলে নদীতে ইলিশ শিকারের আশায় জেলেরা জাল ফেললেও কারো জালে দু’একটা ইলিশ ধরা পড়ছে আবার কেউবা ফিরে আসছেন খালি হাতে। এই সময়টায় এসব নদ নদী থেকে আহরিত তাজা ইলিশ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ চলে যেতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। তাছাড়া এ সময় স্থানীয় হাট বাজারগুলোতেও থাকে ইলিশে সরগরম। কিন্তু সে চিত্রে এখন ভাটা পড়েছে।

স্থানীয় নদ নদীতে ইলিশের আকাল পড়ায় জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছেন আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরাও। মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। এরপর রয়েছে অধিকাংশ জেলের ঘাড়ে এনজিওর ঋণের বোঝা। অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ঠিকমতো এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। এ ছাড়া অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন এ পেশার সাথে জড়িত উপজেলার নিবন্ধিত ২ হাজার ১’শ ৩ জন জেলে। যদিও এদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কচা নদীর টগড়া ও চরখালী ফেরিঘাটে অনেক খুচরা মাছ বিক্রেতারা এ নদীর তাজা ইলিশ বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু ভরা মৌসুমে এসব নদ নদীতে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ অনেক জেলেকে দাদন দেওয়া আড়ৎদার মামুন মাঝি। দাম ভাল থাকলেও নদীতে মাছ কম। তাই চাষের মাছ এখন বেচা বিক্রি বেশি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় কচা নদীতে মাছ শিকার করতে যাওয়া চরবলেশ্বর গ্রামের ফারুক সরদার ও আজিজুলের সাথে। তারা বলেন, গেল বছর সাগরে মৌসুমের শুরুতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও এ বছর তা নেই। তাছাড়া এখান থেকে সাগরের দূরত্ব ২৫/৩০ কিলোমিটার হবে। সাগরের সাথে কচা নদীর সংযোগ রয়েছে। সে হিসেবে এ নদীতেও ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ধরা পড়ার কথা। এক সময় এ নদীটি ইলিশের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ নদীটি ইলিশের জন্য তার সতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে।

জেলে বেলাল ফকির বলেন, জেলেদের জালে সাগর ও নদীতে আগের মত আর মাছ ধরা পড়ে না। এর মধ্যে আবার জলদস্যূদের উৎপাত রয়েছে। কি করব অন্য কোনো কাজও জানা নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই পেশা ছাড়তে পারছি না।

পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাসির মল্লিক জানান, সেখানে স্থানীয় নদ নদীর কোনো ইলিশের দেখা নেই। শুধু সাগরের অল্প কিছিু কিছু ইলিশ আসছে মৎস্য বন্দরে। এতে এ বছর ব্যবসায়ীদের লোকসানে পড়তে হবে।

ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, এ উপজেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত ২ হাজার ১’শ ৩ জন জেলে রয়েছে। এরা কেউ সাগরে আবার কেউবা স্থানীয় নদ নদীতে মাছ শিকার করে থাকে। তবে এ বছর ইলিশের মৌসুমে জেলেদের জালে মাছ কম ধরা পড়ছে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য