kalerkantho


প্রেম করে বিয়ের পর বাড়িতে আটকে নির্যাতন, অতঃপর ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫১



প্রেম করে বিয়ের পর বাড়িতে আটকে নির্যাতন, অতঃপর ...

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রেম করে বিয়ের পর দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী (১৮)কে বাড়িতে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গফরগাঁও থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতাকে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছেন। এ সময় স্বামী রাকিবুল হাসানকেও পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে নির্যাতিতাকে তার পরিবারের জিম্মায় ও রাকিবুলকে থানা হাজতে আটক রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সালটিয়া গ্রামে।

নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সালটিয়া গ্রামের হানিছ মিয়ার মেয়ে (ছানি আক্তার) স্থানীয় রোস্তম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে একই গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম খানের ছেলে রাকিবুল হাসান ফুসলিয়ে মেয়েটির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসার পথে রাকিবুল মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং ৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে নোটারী পাবলিকে এফিডেভিট করে বিবাহ করে।

ছাত্রীর পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান করতে পারেননি। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাকিবুল মেয়েটিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে এলে প্রথমে পরিবারের লোকজন তাড়িয়ে দেন। পরে গ্রহণ করলেও ঘরের ভেতর আটকে মেয়েটিকে খাবার-দাবারে কষ্ট দেয় এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন। এমনকি উস্কানিতে রাকিবুলও মেয়েটিকে নির্যাতন চালাতো। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ছাত্রীর পরিবারের লোকজন গফরগাঁও থানা পুলিশকে অবহিত করলে এস আই জ্যোতিষ চন্দ্র দেব বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় রাকিবুল হাসানকেও পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবারের লোকজন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাকিবুলের মা জড়িনা খানম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার একটাই ছেলে। আমাদের অমতে বিয়ে করায় একটু শাসন করেছি। নির্যাতন করা হয়নি। মোবাইলে কথা বলায় আমার ছেলে শুধু গালে একটা চর দিয়েছে।
নির্যাতিতা ছাত্রীর কাকা হাবিবুর রহমান বলেন, রাকিবুল আমার ভাতিজিকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে নির্যাতন করেছে। আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

গফরগাঁও থানার এস আই জ্যোতিষ চন্দ্র দেব বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ছেলেটি থানা হাজতে আটক রয়েছে। এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য