kalerkantho


নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সারকারখানায় গ্যাস সংযোগ

এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার আশাবাদ

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৬



এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার আশাবাদ

ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ ১৬ মাস পর গ্যাস সংযোগ পেয়েছে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদীর ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা দুটি। শুক্রবার বিকেলে কারখানা দুটিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে গ্রীষ্মকালীন নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে গত বছরের ১৭ এপ্রিল কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ। ফলে কারখানা দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকার খানা থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন এবং পলাশ ইউরিয়া সরকার খানা থেকে দৈনিক ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হতো। ঘোড়াশাল সার কারখানার সিবিএর সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারখানা দুটির প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই গ্যাস সংকটের কারন দেখিয়ে ১৪২২ মেট্রিক টন ক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়াশাল সারকারখানা ও ৩০৫ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ সারকারখানা দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বছরের অধিকাংশ সময় একের পর এক কারন দেখিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাপক লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কারখানা দুটির যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায়।

তিতাসের ঘোড়াশাল সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘোড়াশাল সার কারখানায় দৈনিক ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট ও পলাশ সার কারখানায় ১৩ মিলিয়ন গ্যাসের প্রয়োজন হয়।

ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, ‘ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা দুটি কেপিআই মান-১ বিশিষ্ট উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন কারখানা। এ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে কারখানার কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। সেগুলো এখন পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অচিরেই উৎপাদন শুরু হবে।’

পলাশ সার কারখানার মহাব্যবস্থাপনা (পরিচালক) ইঞ্জিনিয়ার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনের অনুরোধে ও সরকারি সিদ্ধান্তে আজ শুক্রবার বিকালে পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। এরপর থেকেই কারখানার বিভিন্ন অংশ এক এক করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বয়লার চালু করা হবে। বয়লার চালু হলেই কারখানার উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর ইউরিয়া উৎপাদন আসতে ৫/৭দিন সময় লাগতে পারে।’



মন্তব্য