kalerkantho


নতুন ঘর পেয়ে চৌগাছার গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা

শেখ হাসিনা আমাগোর মা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:১৬



শেখ হাসিনা আমাগোর মা

শেখ হাসিনা আমাগোর মা। সেই জন্যি ঘর বানিয়ে দেছে। ঘরছাড়া থেকে কত্ত কষ্ট করেছি। কারো ঘরের হেতনেই শুইছি। আগে কেউ আমাগো ঘর দেয়নি। এবার আমাগোর ঘর হয়েছে। শেখ হাসিনা আমাগোর মায়ের মতো, ভগবানের মতো। ঘর পেয়ে এমনই উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করছিলেন উপজেলার হাউলি গ্রামের শ্রী জঙ্গল ঘোষের স্ত্রী শেফালী রাণী ঘোষ (৪৬)।

একইভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন, ঘরপ্রাপ্ত পলুয়া গ্রামের মৃত অর্জুন পালের ছেলে গোরাচাঁদ পাল (৫৫), পাশাপোল গ্রামের মৃত নূর আলীর ছেলে আমির হোসেন (৬৫)। ঘর পেয়ে সকলেই তারা খুশি। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিলেন সকলে। সকলের চোখেমুখে খুশি ও আনন্দের ছাপ লক্ষণীয়।

আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মর্জাদার সাথে বেঁচে থাকার নিমিত্তে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের 'আশ্রয়ণ-২' প্রকল্পের অধীন 'যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ' শীর্ষক উপ-প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৫’শ ৫১ গৃহহীন জনগণকে ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল ঘরসহ টয়লেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেন জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের 'আশ্রয়ণ-২' প্রকল্পের অধীন 'যার জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজ  জমিতে গৃহ নির্মাণ' শীর্ষক উপ-প্রকল্পের আওতায় অত্র উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে গৃহহীন পরিবারের জন্য ৫’শ ৫১টি আধাপাকা ঘর বরাদ্দ আসে। প্রতিটি ঘর ও টয়লেটসহ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড), উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ। সূত্র জানায়, সরকারি ঘোষণার পরপরই গৃহহীনদের নিকট থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় আবেদন আহ্বান করা হয়। এই আবেদন যাচাই বাছাই শেষে গৃহহীনদের নামের তালিকা পাঠানো হয় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষের নিকট। পরবর্তীতে গৃহনির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে সরকার প্রদত্ত বরাদ্দে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যগণ দেখভাল করেন ঘর নির্মাণের অগ্রগতি। যাতে কোনোক্রমেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতি না হয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবাদত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক এই কাজ যেন বাঁধাগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমরা রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সব সময় জেলা প্রশাসক স্যারের পরামর্শে মহৎ এই কাজকে বাস্তবায়ন করেছি। গত ২২ জুন থেকে এই কাজ আমরা শুরু করি। ইতোমধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর ১১টি ইউনিয়নে ৫’শ ৫১টি ঘরসহ টয়লেট নির্মানের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

ঘর নির্মাণের বিষয়ে স্বরুপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইউনিয়নে ৩৫ জন গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরসহ টয়লেট নিয়মমাফিক নির্দেশনা মোতাবেক তৈরি করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরীব দুঃখী মানুষের মায়ের মতো। তাই ঘর নির্মাণের প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেছি। ইউনিয়নে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমার ইউনিয়নে ৪৪টি ঘরসহ টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। ঘর পেয়ে গৃহহীনরা যে কথ খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়াও করছেন।

ঘর নির্মাণের বিষয়ে যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেন। দেশের জনগণ কীভাবে ভালো থাকবেন সেই চিন্তা ভাবনায় তিনি নানান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। মহিয়সী এমন নেত্রী বিশ্বে কমই আছেন। তাঁর মানবতাবোধ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে বিশ্বের বহু দেশের প্রধানগণ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে ঘর নির্মাণের বিষয়ে সরজমিনে খোঁজ খবর নিতে গেলে, গৃহহীন অনেকের সাথে কথা হয়। বানরহুদা গ্রামের ঘরপ্রাপ্ত মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের মতো কাজ করেছেন। এখন থেকে নিজের মতো করে পরিবার নিয়ে ঘরে থাকব এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে।

একই গ্রামের মহিমুল্লাহ বলেন, আগে আমার কোনো ঘর ছিল না। এখন সরকার ঘর দিয়েছে। এই আনন্দ আমি বোঝাতে পারব না। তিনি এ সময় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

পেটভরা গ্রামের মৃত নূর আলী ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি আমার নিজের ঘর থাকবে। আজ সেটা সত্যি হয়েছে। একই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে রবি মণ্ডল, মুক্তার হোসেন ঘর পেয়ে দারুণ খুশি।

কুষ্টিয়া গ্রামের ইলাহী বক্সের ছেলে শুকুর আলী জানান, আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াত বাড়িয়ে দেন। তিনি গরীবের কথা ভেবে ঘর বানিয়ে দিলেন। যে খুশি হয়েছি তা বলার মত কথা আমি জানি না।

শত কষ্টের মধ্যেও ঘর পেয়ে তারা আনন্দিত। যাদের মাথা গোঁজবার মত সামান্য ঠাঁই ছিল না তারা পেয়েছেন ঘর। জীবনের নিরাপত্তায়, পরিবারের নিরাপত্তায় যারা ছিল সংশয় তারা এখন ঘরের মালিক। ঘর পেয়ে সকলের মুখে স্ফীত হাসি মাঝেমাঝে মুখ থেকে বের হয়ে ঠিকরে পড়ছে আনন্দের ফোয়ারা। যে আনন্দে শান্তির ঘুমে নিদ্রা যাপন বা বসবাস করবেন এক সময় গৃহহীন বলে অবহেলিত মানুষজন। এখন গৃহপ্রাপ্তির নতুন পরিচয়ে বাঁচবেন এবং স্বপ্ন দেখবেন তারা।



মন্তব্য