জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা করার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ।
এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ২১ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে হারুনুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ, আতিয়ার রহমান এবং গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মীর মো. আতিকুজ্জামান মুন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের কাগজপত্র দেখতে চান এবং নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে তাঁর গালে আঘাত করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শুক্রবারই রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপি হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদ দাবি করেন, বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সময় প্রধান শিক্ষক ঘুষের বিনিময়ে প্রস্তাবিত দুজন বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমানের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। বিষয়টি অভিভাবকদের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়ে যান। সেখানে বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ভাই তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তবে তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধর করেননি বলে দাবি করেন। একই ঘটনায় তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হারুনুর রশিদ আরো বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার ছেলেরও শিক্ষক ছিলেন। তাঁকে মারধর করার প্রশ্নই আসে না।’
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




