kalerkantho


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আকবর

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০১:৫৬



২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আকবর

মো. সম্রাট আকবর

কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের চররুহিতপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সম্রাট আকবর। তার পিতা মো. সুরুজ জামাল মিয়া ও মাতা মনোয়ারা বেগম স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি করতেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে সামনে থেকে এক নজর দেখার জন্য মা-বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জনসভায় যোগ দিয়েছিল সম্রাট আকবর। 

তারা জনসভায় যোগ দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই ঘটে গ্রেনেড হামলার ঘটনা। হামলায় অন্যান্য মানুষের সঙ্গে আহত হয় সম্রাট আকবর ও তার বাবা-মা। শরীরে গ্রেনেডের  স্প্লিন্টার নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় সম্রাট আকবর ও তার বাবা-মা। অর্থের অভাবে বেশিদিন চিকিৎসা নিতে পারেনি তারা। পায়নি কোনো আর্থিক সহযোগীতা। শরীরে স্প্লিন্টার নিয়েই ৪ বছর প্যারালাইসিস থেকে মারা যায় তার বাবা সুরুজ জামাল মিয়া। থাকতেন ভাসানটেক বস্তিতে।

পরবর্তীতে ভাসানটেক বস্তি উচ্ছেদ করে দিলে তারা কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর এলাকায় চলে আসে। সাহায্যের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পায়নি কোনো প্রতিকার। একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করে কোনো সাহায্য মেলেনি। সাহায্যের আবেদন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেমোরিয়াল ট্র্রাস্টে। একাধিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেছেন। কিন্তু সবকিছুই কাগজে সিমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

আটাশ-ত্রিশ বয়সের এক যুবক, মঙ্গলবার দুপুরে কদমতলী এলাকায় খুড়িয়ে হাটতে হাটতে আমাদের প্রতিবেদকের কাছে এসে বললেন, সাংবাদিক সাহেব আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। আমি অনেক দিন ধরে আপনাকে খুঁজি। তাকে নিয়ে একটি চায়ের স্টলে যাই। সেখানে গিয়ে তার নাম জিজ্ঞাসা করলে জানায় তার নাম মো. সম্রাট আকবর। কি কারণে আমাকে খুঁজছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাবা-মার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনে থেকে দেখার জন্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউতি গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলায় বাবা-মার সঙ্গে আহত হই আমিও। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। মাঝে মাঝে মনে হয় সেদিন মরে গেলে হয়তো এতো কষ্ট পেতে হতো না। 

বাবা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন, মাও রয়েছে মৃত্যুসজ্জায়। শরীরের হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছি আমি। এর মধ্যে আবার বিবাহযোগ্য দুইবোনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। তৎকালীন সরকারের আমলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। তবে বেশিদিন সেখানে চিকিৎসা নিতে পারিনি আতংকে বাড়ি চলে এসেছি। শুনেছি ডাক্তাররা আহত রোগীদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলবে। পরবর্তীতে অর্থের অভাবে আর চিকিৎসা নিতে পারিনি। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাহায্যের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কেউ সাহায্য করেনি। 

একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেছি। সাহায্যের আবেদন করেছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেমোরিয়াল ট্র্রাস্টে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এখন আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, 'আমি বাঁচতে চাই, আমাকে আপনারা সাহয্য করেন'। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনার একটু সাহায্যে বাঁচতে পারি আমি ও আমার পরিবার।



মন্তব্য