kalerkantho


পানি বেঁচে জীবন চলে এই পথশিশুদের

গফরগাঁও(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৫২



পানি বেঁচে জীবন চলে এই পথশিশুদের

ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের রাঘাইচটি এলাকার মৃত কাশেম মিয়ার ছোট শিশু কন্যা আখি বেগম( ১০) রেল ষ্টেশনে যাত্রীদের কাছে পানি বিক্রি করে। আখি বিদ্যালয় কি জানে না। ঈদে নতুন জামা পেয়েছে কি?- এ প্রশ্ন করলে ফেল ফেল করে তাকিয়ে ‘না’ বলে মাথা নাড়ে। একই এলাকার বাদল মিয়ার কন্যা ইভা (৮) মা রহিমা বেগমের সাথে পানি বিক্রি করে। ইভার জন্মের সময় 'মেয়ে শিশু জন্ম' হওয়া তার অপরাধ! এ কারণে বাদল মিয়া স্ত্রী রহিমা বেগমকে তালাক দেন। এর পর থেকেই ইভা মায়ের সঙ্গে আছে। ষ্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে মায়ের পিছু পিছু  'ঠাণ্ডা পানি' 'ঠাণ্ডা পানি' বলে তৃষ্ণার্থ যাত্রীদের কাছে পানি বিক্রি করে। মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে রেশমি(১০) স্থানীয় খায়রুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা রাজিয়া বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে। মাকে সহযোগিতা করতে রেশমি ষ্টেশনে পানি বিক্রি করে। এ ছাড়াও মানসিক ভারসাম্যহীন দুলাল উদ্দিনের মেয়ে মামনি আক্তার(৭)। তার মা লাভলী বেগম গ্রামে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন। মায়ের অনুপস্থিতিতে মামনিও অন্য শিশুদের সঙ্গে ষ্টেশনে পানি বিক্রি করে।

সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশন ও আশেপাশের এলাকায় প্রায় অর্ধ-শতাধিক ছিন্নমূল পথশিশু বাস করে। অনেক শিশুর মা নেই, বাবাই আবার অনেকের বাবা-মা কেউ নেই। তারা জানেও না কোথায় বাড়ি, কে তাদের বাবা-মা। কেউ দিলে খায়, রাত হলে ষ্টেশনেই ঘুমায়। অন্যের লাথি খেয়ে বেড়ে উঠছে এসব পথশিশু। জীবন ধারণের জন্য এই শিশুরা কুড়ানো বোতলে টিউবওয়েলের পানি ভরে তৃষ্ণার্ত ট্রেন যাত্রীদের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে। এই পথশিশুদের নিয়ে কারো কোনো ভাবনা নেই। এমনকি স্থানীয় কোনো সংগঠন নেই তাদের পাশে দাড়ানোর। 

স্থানীয় কৃষকলীগ নেতা আবুল হোসেন চন্দন বলেন, অবহেলায় বেড়ে উঠছে শিশুগুলো। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে শিশুগুলোর পাশে দাঁড়ালে ওরাও পড়ালেখা করে মানুষ হতো।



মন্তব্য