kalerkantho


মাদারীপুরে জমে উঠেছে আমন ধানের চারার বাজার

মাদারীপুর প্রতিনিধি    

২০ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৩৩



মাদারীপুরে জমে উঠেছে আমন ধানের চারার বাজার

মাদারীপুরের মস্তফাপুরে জমে উঠেছে আমন ধানের চারা বেচা-কেনার বাজার। সদর উপজেলার মস্তফাপুর বাজার এলাকার পানপট্রি থেকে পূর্ব পাশের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার ভোর থেকেই বসছে আমন চারার বিশাল হাট। তবে বর্তমানে আমন ধানের চারার দাম চড়া হলেও হাট শেষে কোনো চারাই বিক্রেতাদের কাছে থাকছে না। ক্রেতারাও চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুরের বেশীর ভাগ এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের ভরা মৌসুম। কৃষক মাঠে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত। মৌসুমের শুরু থেকে টানা বৃষ্টি, বৈরি আবহাওয়ায় বীজতলার মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ এলাকায় আমনের চারা নষ্ট হয়ে যায়। এসব প্রতিকূলতা পেরিয়ে কৃষকরা নতুন  উদ্যোমে শুরু করেছেন আমন আবাদ। আমনের চারা কিনতে কৃষক ছুটছেন মস্তফাপুর চারার হাটে।
প্রতি সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার ভোর থেকে দুর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠে চারার হাট। মাদারীপুর জেলার বেশীর ভাগ অঞ্চলের জমি অন্যান্য এলাকার তুলনায় উঁচু হওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা তেমন নেই। বীজতলাও নষ্ট হয় না। এ কারণে অন্যান্য এলাকার কৃষক চারার সংকট কাটাতে মস্তফাপুর বাজার বীজের হাটে আসেন। 

এ ছাড়াও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় জাতের আমনের চারা ভালো মানের এবং বেশ লম্বা। এটি লবণসহিষ্ণু জাত। মস্তফাপুর চারার হাটে চারা সংগ্রহ করতে আসে কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন কৃষকসহ পেয়ারপুর, কুনিয়া, কেন্দুয়া, ডাসার, বালীগ্রাম, খৈয়ারভাঙ্গা, হাউঝদী, কালিবাজার, চতুরপাড়া কলাগাছিয়া, আমগ্রাম, পাচখোলা, পখিরা, খোয়াজপুর এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

মস্তফাপুর এলাকার এক কৃষক শাজাহান হাওলাদার জানান, চারা বাজার জমে উঠেছে। তবে যে চড়া দাম তাতে এই চারায় যে ধান হবে সেই ধানে মণ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করতে হবে। তারপরও আমনের চারা কিনতে হবে। কিছু করার নাই।

মাদারীপুর পেয়ারপুরের এক কৃষক জানান, বীজ নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা অনেক সমস্যায় পড়েছে। তাই তারা হাটে আমনের চারা কিনতে এসেছেন।

আমন ধানের চারা বিক্রেতা সাইদুল, নাসির, রমজানসহ কয়েকজন বলেন, আমরা যারা আমন ধানের চারা বিক্রি করি তারা বেশীর ভাগ বিক্রেতা জমি থেকে চারা তুলে তারপর বিক্রি করতে এনেছি। আর এতে আমাদের খরচও বেশী হয়ে যায়। তাছাড়া যারা নিজেদের জমি থেকে চারা তুলে তাদেরও খরচ একবারে কম হয় না। চারা তুলতে এক একজন শ্রমিককে ৫০০ টাকা দিতে হয়। এরপর সার, বীজ ও এক মাস যত্ন করতে হয়। আর এতেই চারার দাম একটু বেশী হয়ে যায়। 

এ প্রসঙ্গে মস্তফাপুর বাজার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম মাতুব্বর জানান, আমাদের মস্তফাপুর বাজারে অনেক বড় চারার হাট বসে। তাই কোনো প্রকার সমস্যা যাতে না হয় এর জন্য যতক্ষণ চারা হাট থাকে ততক্ষণ আমাদের বাজারের প্রতিনিধি সব সময় তাদের নজরে রাখে। তবে অন্য বারের চেয়ে হাট আরো জমজমাট হয়েছে। দুর-দুরান্ত থেকে যে সব কৃষকরা আসে তাদের কেউ যেন কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়ে তার জন্য আমরা কঠোর নজরদারি রেখেছি।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জি এম গফুর বলেন, এই চারাগুলো লবণাক্ত পানিতেও কিছু হয় না, এমনকি চারা ডুবে গেলেও নষ্ট হয় না। চারাগুলো এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এই এলাকার আমন ধানের চারাগুলো অনেক ভালো। পোকা-মাকড় আক্রমণও কম করে। তাই উচু জায়গার চারা হওয়ায় অন্য জমিতে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। তাই কৃষকরা এই চারা আবাদে লাভবান হচ্ছে।



মন্তব্য