kalerkantho


নোয়াখালীতে মওদুদ আহমেদ

বর্তমানে ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০৪:৪৭



বর্তমানে ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই

ছবি: কালের কণ্ঠ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। গণতান্ত্রিক কোনো পরিবেশও নেই। গণতান্ত্রিক অধিকারও নেই কারো। আমার বাড়িতে নেতাকর্মীরা দেখা করতে আসলে তাদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এই ফ্যাসীবাদ। এটা স্বৈরাচারী, ফ্যাসীবাদি আচরণ ছাড়া আর কিছুই না। আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। রবিবার বিকাল ৩টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে মানিকপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে প্রেস ব্রিফিং-এ এসব কথা বলেন। 

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার আর যদি আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে এ মাসের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। বেগম খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের যে জামিন, তা ১লা  অক্টোবর পর্যন্ত দেয়া আছে। তিনি ৬ মাস জেলখানায় আছেন সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে। নিম্ন আদালতের ওপর সরকারের যে আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এখন তো নিম্ন আদালত সুপ্রিম কোর্টের অধীনে না। গত বছর ১১ ডিসেম্বর সরকার গেজেট করে, নিম্ন আদালতের ক্ষমতাটা চলে গেছে নির্বাহী বিভাগের অধীনে। 

নিম্ন আাদালতে বিচারক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, তাদের শৃঙ্খলা সব কিছু নির্বাহী বিভাগের অধীনে। সুতরাং নিম্ন আদালতের বিচারকরা সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তাদের দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা সরকারের কাছে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে নয়। সে কারণে সরকার বেগম জিয়ার জামিন বিষয়ে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের ৩ সপ্তাহের মধ্যে জামিনে বের হয়ে যাওয়ার কথা। এখন যে অবস্থায় এসেছে, আর দু’টি মামলার জামিন বাকী রয়েছে। 
এখন হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে সাত দিনের মধ্যে এগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য। বেগম জিয়ার জামিন হাইকোর্ট থেকে নেয়া হবে। সরকার যদি আর কোনো রকম হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে বেগম জিয়া এ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্ত হবেন। বেগম জিয়া যেদিন মুক্তি পাবেন, সেদিন বাংলাদেশে নতুন করে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। সে গণজোয়ার ঠেকানো কারো সাধ্য থাকবে না। 

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, গত ১০ বছরের অত্যাচার, নির্যাতন, দুঃশাসন, কু-শাসন, অপশাসন এগুলো সব পুঞ্জিভূত একটি ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে এবং সেটা বেগম জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই ঘটবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকার ওপরে চুরি হয়ে গেছে। একটা লোকও গ্রেপ্তার হলো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা তামা হয়ে গেছে, এখানে কাউকে সন্দেহ করা গেল না। দেড় লাখ টন কয়লা চলে গেল, আড়াই লাখ টন খনিজ পাথর চুরি হলো, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এতে প্রমাণ করে এ সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। এ সরকার গভীরভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাদের নিজস্ব লোকজন এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ জন্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। আমরা এখন পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে এ সকল দুর্নীতির কোনো ব্যাখ্যা পেলাম না। এতগুলো ঘটনার পরও কেন এখন পর্যন্ত একটা লোককেও গ্রেপ্তার করা হলো না। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আবদুল হাই সেলিম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন, চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ প্রমুখ।



মন্তব্য