kalerkantho


শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরি সংকটে তীব্র যানজট

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:৪০



শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরি সংকটে তীব্র যানজট

গরু মরিয়া যাইব, এহানি মোখের (মুখ) থেইকা লাড্ডু (ফেনা) বের হইতাছে। কাইল খাওয়াইয়া আনছি। এখন খালি গায়ে পানি দেওন ছাড়া কোনো কিছু দিতে পারি না। এ কথাগুলো বলছিলেন যশোর থেকে আসা ফেরির অপেক্ষায় থাকা গরু ব্যবসায়ী মনু মিয়া। মনু মিয়ার মতো গরু ব্যবসায়ী কানু সরদার, হারুন শেখ ও এখলাছ উদ্দিনসহ অনেকেই নদী পারের অপেক্ষায় ফেরি ঘাটের দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা পড়েন। আজ 
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইব্রাহিমপুর ফেরি ঘাটে প্রায় চার শতাধিক যানবাহন দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা পড়ে।

বিআইডাব্লিউটিসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার যাত্রিবাহী ও মালবাহী যানবাহন পূর্বাঞ্চলের চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতো। চাঁদপুর-ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট দিয়ে সহশ্রাধিক ছোট-বড় ও মাঝারি ধরনের যানবাহন পারাপার হতো। এমভি কেতকী, এমভি কুসম কলি, এমভি কস্তুরীসহ মোট ৪টি ফেরি দিন-রাত গাড়ি পারাপারে করতো। দীর্ঘদিন যাবত শরীয়তপুরের মনোহর বাজার থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ৫-৬ কিলোমিটার বাদে সব জায়গাতেই বড় বড় গর্ত ছিলো। তাই পরিবহন মালিকরা দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। গাড়ি কমতে থাকায় এই রুটে একটি ফেরি চালু রাখা হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে আরো একটি ফেরি যুক্ত করা হয়।  প্রতিদিন দুটি করে ফেরি চলাচল করে আসছিল।

গাড়ি চালকরা বলেন, মনোহর বাজার থেকে আলুর বাজার পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রাস্তার বড় গর্তগুলো ইট ও বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। আবার শিমুলিয়া ও কাওড়াকান্দি ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে যানবাহনগুলো শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে ফেরিতে চলে আসছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে প্রায় তিন শতাধিক গরু ও পণ্যবাহী ট্রাক, ৫০টির মতো যাত্রীবাহী বাস ও ৫০টি ছোট যানবাহন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ রুটে গরু বহনকারী ট্রাকের চাপ বেড়েছে। তাছাড়া ইব্রাহিমপুর-হরিণাঘাট নৌ-রুটে নদী পারাপারের জন্য মাত্র দুটি ফেরি রয়েছে। এর ফলে সঠিক সময়ে যানবাহনগুলো পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে না।

যশোর থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী হারুন শেখ বলেন, এবার প্রথম এই ঘাট দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছি। 
গতকাল বিকেলে আসছি কিন্তু সিরিয়াল পাইনি।

গরু ব্যবসায়ী কানু সরদার বলেন, গরু গাড়িতে তোলার আগে খাবার খাওয়াইছি। এই ঘাটে গরু নিয়ে আসছি গতকাল বিকেলে। নামিয়ে যে গরুরে হাটাবা বা খাওয়াবো তার কোনো উপায় নেই। এখন যদি গাড়িতে খাবার না খাওয়ানো হয় নিশ্চিত মারা যাবে গরু। 



মন্তব্য