kalerkantho


নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

নরসিংদী প্রতিনিধি    

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ২১:৫৬



নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

নরসিংদীর শিবপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাড়িয়েছে। তবে পুলিশ চারজন মারা যাওয়ার বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের কোন্দারপাড়া (সোনাইমুড়ি পার্ক) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১৪ জন। হতাহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন। তাঁরা নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ে শেষ করে বরযাত্রী নিয়ে চাঁদপুর যাচ্ছিল।

নিহতরা হলেন- নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নবোয়ারচর এলাকার সুবল বর্মনের মেয়ে প্রান্তিকা বর্মন (৬), চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকার সুজন বর্মন (৩৫) ও তাঁর মেয়ে স্নিগ্ধা বর্মন (৫), একই এলাকার কার্তিক চন্দ্র বর্মনের ছেলে শুভ বর্মন (২৫), নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপতারা এলাকার নির্মল বর্মনের মেয়ে বৃষ্টি বর্মন (৬), একই এলাকার নির্মল বর্মনের ছেলে সৌরভ বর্মণ (১০) ও শরীয়তপুরের নড়িয়া এলাকার ভিডিওম্যান সজল (২০)। আর আহতরা হলেন- নরসিংদীর রায়পুরার ভুয়াপুর এলাকার মো. আমজাদ হোসেন (৩৮), নবোয়ারচর এলাকার রুমা বর্মন (২০), একই এলাকার সুমা বর্মন (২৫), সায়ন্তিকা (৩), ঢাকার ডেমরার দেলোয়ার হোসেন (২৪), আড়াইহাজারের শামসুজ্জামান (৩৫), মতলবের নিলতা বর্মণ (৩২), অনিক চন্দ্র বর্মন (১২), বিক্রম চন্দ্র বর্মন (৪০), ভুলু বর্মন (২৫), রাজু বর্মন (২৫), মুন্সীগঞ্জের সোহাগ (২৮), কিশোরগঞ্জের জমশেদ (৩০) ও নরসিংদীর ভেলানগর এলাকার বেনু মিয়া(৩৮)। 

নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকার রাজিব বর্মন ওরফে রাজু বর্মনের সঙ্গে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের নভোয়ারচর এলাকার রুমা বর্মনের বিয়ে হয়। বিয়ে শেষে আজ মঙ্গলবার সকালে রায়পুরা থেকে ষাটনলে ফেরার পথে বর-কনেকে বহন করা মাইক্রোবাসটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কোন্দারপাড়া এলাকায় সোনাইমুড়ি পার্কের সামনে পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী মিতালী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্নিগ্ধা, বৃষ্টি ও প্রান্তিকা নিহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়। গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে আনার পথে স্নিগ্ধার বাবা সুজন বর্মন মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ গুরুতর আহত হওয়ায় দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাকি সবাইকে ঢাকা মেডিক্যালে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে সৌরভ, শুভ ও সজল মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতদের আত্মীয় নরসিংদীর বীরপুর এলাকার লক্ষণ বর্মন। তিনি আরও বলেন, 'ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যাওয়ায় তাদেরকে আর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বলে জানতে পেরেছি।'

বর রাজীব বর্মনের বড় বোন শুভা রানী বর্মণ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের মোট ৬০ জন বরযাত্রী নিয়ে বিয়েতে গিয়েছিলাম। বরযাত্রী সকালে ফেরার পথে প্রথমে ৩টি মাইক্রোবাস ও পরে বর-কনেকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস রায়পুরা থেকে বাড়ি ফিরছিল। আর এই মাইক্রোবাসটিই দুর্ঘটনার শিকার হয়।'   

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শেলী রানী দাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হতাহতদের মধ্যে চারজনকে নিহত এবং ১৭ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাকীদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে।'

এদিকে ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মিতালী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটির সামনে চাকা ফেটে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটিকে চাপা দেয়। এতে মাইক্রোবাসের চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৭ জন। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।' 

তিনি আরো বলেন, 'ঢাকায় নেওয়ার পথে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে শুনতে পেরেছি। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র না থাকায় এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই।'



মন্তব্য