kalerkantho


সংখ্যালঘুর ঘরবাড়ি ভেঙে দখলের তাণ্ডব, আতঙ্কে একজনের মৃত্যু

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০২:৫৬



সংখ্যালঘুর ঘরবাড়ি ভেঙে দখলের তাণ্ডব, আতঙ্কে একজনের মৃত্যু

ছবি: কালের কণ্ঠ

ধামরাইয়ে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি সংখ্যালঘু এক পরিবারকে মারপিট করে ঘর-বাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে দিয়ে দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলের তাণ্ডব দেখে প্রতিবেশী এক ব্যবসায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সূয়াপুর ইউনিয়নের আটানীপাড়ায়। 

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সূয়াপুর মৌজায় সাত শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি কেস নং ১৪১/৭৩) লীজ নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে কার্তিক চন্দ্র মনিদাস। বাড়িতে একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালিয়ে আসছে কার্তিক। 

গত বৃহস্পতিবার সকালে কুটিরচর গ্রামের প্রভাবশালী কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজি আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কার্তিক মনিদাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মা আরতি মনিদাস, শাশুড়ি সোনা মনিদাস ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে কনিকা মনিদাসকে মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বসত ঘর ও একটি দোকান ভেঙে তছনছ করে দখল করে নেয় সন্ত্রাসীরা। এরপর সেখানে ইট দিয়ে প্রাচীর দিয়ে দখল করে নেন আজিজ। 

দখলের তাণ্ডব দেখে কার্তিকের প্রতিবেশী মুদি দোকানদার প্রদীপ চক্রবর্তী (৪৫) হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। এর আগে কার্তিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে আজিজের ছেলে জাহিদুল ইসলাম। এ মামলায় সোমবার রাতে কার্তিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। 

নিহতের ভাই বিজয় চক্রবর্তী জানায়, দখলের তাণ্ডবলীলা দেখেছে আমার ভাই। এরপর তার বুকে ব্যথা অনুভব হয়। তাৎক্ষণিক সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

কার্তিকের স্ত্রী রিনা মনিদাস জানায়, তার স্বামীকে জামিন করাতে বৃহস্পতিবার আদালতে যায়। এ সুযোগে আজিজ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমার মা-শাশুড়ি, তিন শিশু মেয়েদের মারপিট করে বাড়িঘর দখল করে নেয়। বৃহস্পতিবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে গতকাল শুক্রবার জেলখানা থেকে বের হয় কার্তিক। কার্তিক জানায়, আমার নিজ নামের জমি আজিজের কাছে বিক্রি করেছি যা তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমার বসতবাড়ি ভিপি সম্পত্তি তো বিক্রি করি নাই। এরপরও ওই ভিপি সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে আজিজ।

এ বিষয়ে আজিজুর রহমান জানায়, কার্তিক আমার কাছে তার বসত বাগি ভিপি সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু দখল বুঝিয়ে দেননি। তাই দখল করে নিয়েছি। এ ছাড়া তিনি জানান, কার্তিকের নামে সাত শতাংশসহ আরো ২১ শতাংশ জমি আমার নামে সরকার থেকে লীজ নিয়েছি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকের সাত শতাংশ বসতবাড়ি দখল ছাড়াও আজিজুর রহমান যে ২১ শতাংশ জমি লীজ নিয়েছে ওই জমিতে বাস করে আসছে হরিদাস নামের এক বৃদ্ধ। হরিদাসের নামেই বাংলা ১৪১৮ সন পর্যন্ত লীজ মানি পরিশোধের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ডিসিআর কপি রয়েছে। তিনি নবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ১৭ এপ্রিল আবেদনও করেছেন যা রিসিভ কপি এ প্রতিবেদককে দেখান। ওই জমিটুকু লীজ নিয়েছে আজিজুর রহমান।

হরিদাসের মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে এ প্রতিবেদককে জানায়, কার্তিকের পর এবার আমার বাড়িঘর দখল করে নেবে বলে আতঙ্কে আছি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রিজাউল হক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 



মন্তব্য