kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ১৫:৪২



ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

রোকনুজ্জামান ও মুনতা হেনা নামের দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুজনই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ফলের অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়া দুজন আত্মহত্যা করেছেন। রোকনুজ্জামান ও মুনতা হেনার মধ্যে কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি সহপাঠীরা জানতো।

মুনতা হেনার বাবা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাঁর মেয়ে নিজ শয়নকক্ষে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। দুজনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছ। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সহপাঠী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোকনুজ্জামান ও মুনতা হেনা একে অপরকে ভালোবাসতেন। বিষয়টি মুনতা হেনার পরিবার মেনে না নেওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মুনতার মৃত্যুর খবর পেয়ে রোকনুজ্জামান ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুনতা হেনা। এ খবর শোনার পর কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলার এক মেসে থাকা রোকনুজ্জামান শহরের মতি মিয়া রেলগেট এলাকায় যান। রাত সোয়া নয়টায় পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান এই ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, মুনতা হেনা ও রোকনুজ্জামান  ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দুজনই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে রোকন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। মুনতা হেনার ফল ছিল সিজিপিএ (কিউমিলিটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) ৩.৫০। তাঁরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে বুঝতে পারছি না।

পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আফজাল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধারের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোকনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা এলাকায়।



মন্তব্য