kalerkantho


বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি    

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০৯:৪৪



বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া খনি থেকে এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় আরো দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রটি। আজ সোমবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।

জানা গেছে, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। এর বর্তমান বাজার মূল্য ২২৭ কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য আবু সাঈদ গত সোমবার খনি এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। ঘটনা তদন্তে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করা হয়। পরে আরো একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম জানান, এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিসিএমসিএল। তারা কয়লা সরবরাহ করতে পারছে না। বিদ্যুেকন্দ্রটি চালাতে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু খনিতে সাময়িকভাবে কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকায় এবং মজুদ ফুরিয়ে আসায় ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই সোমবার (আজ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে তারা।

জানা গেছে, কয়লা খনি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করে পেট্রোবাংলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে তাত্ক্ষণিক বদলি করে সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানিতে পাঠানো হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত করা কর্মকর্তারা হলেন—মহাব্যবস্থাপক আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান (মাইন অপারেশন) ও উপমহাব্যবস্থাপক খালেদুল ইসলাম (স্টোর)।

নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা যেখানে স্তূপ করে রাখা হয় সেখানে এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা ছিল। অথচ সেখানে এখন এক টন কয়লাও নেই বলে জানান কম্পানির আরেকজন মহাব্যবস্থাপক। প্রতি টন কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ২২৭ কোটি টাকার কয়লার কোনো হদিস নেই।

তবে বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘খনিতে ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক কোটি ২০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। এতে সিস্টেম লস অর্থাৎ রোদে শুকিয়ে, পানিতে ধুয়ে, বাতাসে উড়ে ও মাটিতে মিশে অনেক কয়লা নষ্ট হয়েছে। এটা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা কাজ করছে। কয়লা গায়েবের যে অভিযোগ উঠেছে তা কোনোভাবেই প্রমাণ করা যাবে না। তদন্তে সত্য বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।’

এ ব্যাপারে জানতে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন ফেসে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



মন্তব্য